প্রকাশ: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৬:০৩ পিএম

গাজীপুরের গাছায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামরুল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনাও মানছেন না তিনি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত হওয়ায় কামরুজ্জামান কামরুলের বিরুদ্ধে খোদ তার দলের লোকজনই অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেছেন, কামরুজ্জামান কামরুলের সংগঠণ বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য দলের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। এবিষয়ে দলের হাইকমান্ডে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
গত ৫ আগষ্টের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে গাজীপুর মেট্রো গাছা থানার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোন নির্দেশনা দেন চাঁদাবাজতে প্রতিহত করতে। কিন্তু, ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালানোর পর মেয়র কাউন্সিলর অপসারণ হয়। তখনই কামরুজ্জামান কামরুল ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি হিসেবে মাঠে আসেন। তার একক আধিপত্য বিস্তার করতেই টেন্ডারবাজি ও দখলবাজিসহ নিজের নামে ডিশ ময়লা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ঝুট এবং বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকায় কৌশলী কামরুজ্জামান কামরুল আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে সহযোগীতা নেন। এই আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রত্যক্ষ মদদেই বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের কোণঠাসা করে রাখেন তিনি। খোজ নিয়ে জানা গেছে, কামরুজ্জামান কামরুল টঙ্গীর পাগার এলাকায় থাকতেন। গত ২০০১ সালের দিকে জড়িয়ে পড়েন ফেনসিডিল গাঁজা হিরোইনের মত মাদকদ্রব্য ব্যবসার সাথে।
এমনকী বগারটেক ৩৮ নং ওয়ার্ড ব্রিজের আগে একটি হত্যা মামলার আসামী হিসেবে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। জেলমুক্তির পর কামরুজ্জামান কামরুল জামাতের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। নিজেও নামাজ পড়তে শুরু করেন। জামাতের লোকজনের সাথে নিয়মিত মসজিদেও যাতায়াত করতেন। এলাকায় ভালো মানুষ সাজার কৌশল হিসেবে তিনি এ পথ বেচে নেন। কিন্তু হঠাৎ করে পাল্টে যায় তার গতি।
জুলাই আগেস্টের ছাত্র জনতার আন্দোলনের শেষের দিকে সত্রিয় হন তিনি। এরপরই বনে যান বিশাল নেতা। ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির আওয়াজ দেয় এলাকায়। একে একে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া শুরু করে। এতে দলের লোকজনসহ সাধারন মানুষও তার উপর ক্ষুব্ধ হন বলে জানা গেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর