প্রকাশ: রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ৩:২৩ পিএম

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর দক্ষিণ পাড়া থেকে শিবনগর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির সড়কটি এখনও পাকাকরণের আওতায় আসেনি। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করলেও বছরের পর বছর এটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পাকাকরণের অভাবে এটি এখন চলাচলের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্ষার মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, ফলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত এবং কৃষিজ পণ্য পরিবহনেও ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন জানান, “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ চলাচল করে। বর্ষা বা ঝড়বৃষ্টিতে কাদা জমে এমন অবস্থায় পড়ে যে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে যায়। রাস্তা পাকা হলে আমাদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি এলাকার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”
এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে একটি কবরস্থান রয়েছে। মৃতব্যক্তিদের দাফন করতে নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা জমে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে মৃতদেহ পরিবহনও দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও রাস্তার মেরামত ও পাকাকরণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। বর্ষাকাল এলে কাদায় পরিপূর্ণ রাস্তার চিত্র যেন এলাকাবাসীর নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও বিষয়টি উপেক্ষিত রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, সড়কটি পাকা হলে দৈনন্দিন যাতায়াতের সুবিধা ছাড়াও কৃষিপণ্য পরিবহনে খরচ কমবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতই সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করবে।
এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী মোসাঃ সাবরীন মাহফুজ বলেন, “চন্দনপুর-শিবনগর সড়কটি "বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো” শীর্ষক প্রকল্পের আসন্ন চতুর্থ পর্যায়ের ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে প্রাক্কলন পাঠানো হবে এবং দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর