
পটুয়াখালী পৌরসভার টাউন জৈনকাঠী এলাকায় বাড়ি নির্মাণে বাধা, চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর এবং স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক নারীসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন—নাজমা বেগম, তাঁর দুই ছেলে জিহাদ ও মাহমুদ এবং নাজমা বেগমের ভাই আনোয়ার হোসেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শহরের টাউন জৈনকাঠী এলাকার ২ নম্বর বাঁধঘাট পানির ট্যাংকসংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মো. মালেক মৃধা, মো. জলিল মৃধা, মো. কামাল মৃধা, মো. সিদ্দিক মৃধা, মো. ইকবাল মৃধা, মো. জামাল ও মো. সোহেল মৃধাসহ অজ্ঞাতনামা ১১-১২ জন।
ভুক্তভোগী নাজমা বেগমের অভিযোগ, তাঁরা টাউন জৈনকাঠী এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে সেখানে নতুন করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে অভিযুক্তরা তাঁদের কাছে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এর আগেও তাঁরা নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ঘটনার দিন রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র—যেমন দা, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা কাজ বন্ধ করতে বলে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। বাড়ির লোকজন প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় নাজমা বেগমের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ছাড়া অন্য এক হামলাকারীর দায়ের কোপ থেকে বাঁচতে হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে এক যুবকের ডান হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। অপর একজনের মাথায় লাঠির আঘাতে গুরুতর জখম করা হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে নাজমা বেগমের গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর ছেলে জিহাদের পকেট থেকে ৯ হাজার টাকা এবং ঘরের আলমারি ভেঙে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করা হয়। এ সময় নাজমা বেগমের শ্লীলতাহানির পাশাপাশি বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
পরে তাঁদের আত্মচিৎকার শুনে নাজমা বেগমের ভাই আনোয়ার হোসেন ও স্থানীয় অন্যরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি