
পানির সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। সেই শহীদদের স্মরণে গতকাল সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যারা মুখে বলে চব্বিশকে ধারণ করে, তাদের কোনো প্রতিনিধি জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ, একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, একইভাবে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ দিয়ে কাদের সাহায্য করা হচ্ছে? দেশে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল, সেই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এরই মধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এতে কৃষকেরা সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ হবে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভাণ্ডার। এখানে যেমন পানির কষ্ট হয়, অন্য এলাকাতেও হয়। শহীদ জিয়ার সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। বরেন্দ্র প্রকল্পও শহীদ জিয়ার সময় কার্যকর হয়েছিল।
পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানির সমস্যা সমাধানে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। বাংলাদেশের পানির হিস্যা পাওয়ার জন্য যতদূর যেতে হয়, সরকার সেই চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন প্রমুখ।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহমুদা হাবীবা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ