
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে আগাছানাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের ৫৪ শতক জমির ধানখেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকের ছেলে আশরাফ আলী।
অভিযুক্তরা হলেন হাসিবুল ইসলাম (৩৮), হরমুজ আলী (৪০) ও তাঁদের বাবা আব্দুল হক। তাঁরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ দর্জিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী কৃষক আবুল হোসেন ও তাঁর ছেলে আশরাফ আলীর বাড়ি একই ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর আবুল হোসেনের ভোগদখলে থাকা ৫৪ শতক জমির ধানখেতে আগাছানাশক ‘রাউন্ডআপ’ প্রয়োগ করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে জমিতে গিয়ে তাঁরা ধানগাছ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদকে বিষয়টি জানান তাঁরা।
সোমবার চিমনজোত এলাকায় সরেজমিনে ধানখেত পরিদর্শন করে আগাছানাশক প্রয়োগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত আট থেকে নয় মাস ধরে দর্জিপাড়া মৌজার জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম দাবি করেন, তাঁর জমি ওই ধানখেতের পাশে। তিনি ধানখেত দেখতে এসে হাসিবুল ও হরমুজকে স্প্রে মেশিন নিয়ে জমির দিকে যেতে দেখেছেন।
নাম প্রকাশ না করা আরেক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, তিনি জমিতে হালচাষের কাজ করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে হাসিবুলের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তখন ফসল নষ্ট করার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও জমির ফসল ও চা-বাগান নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘ধার-দেনা করে জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু রাতের আঁধারে আমার ধানখেতে কীটনাশক দিয়ে ফসল নষ্ট করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ আছে, এমন জমির পাশাপাশি বিরোধ নেই, এমন জমির ধানও নষ্ট করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
তাঁর ছেলে আশরাফ আলী বলেন, ‘আমার বাবাসহ আমরা দুই ভাই এই জমিতে চাষাবাদ করে চলতাম। রাতের আঁধারে আমাদের ধানখেত নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি এবং স্থানীয়দের কাছেও বিচার চেয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাসিবুল ও হরমুজের মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এই কাজ আমরা করিনি। তারাই নষ্ট করে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’
তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখন স্থানীয় অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন।’
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জমি দখল ও ফসল নষ্টের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ থাকার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি