প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এ ঘটনায় ইরানের ভূমিকার বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ দেখেননি।
সোমবার ট্রাম্পকে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী মনে করেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে হ্যাঁ।’
এদিকে ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর কো-পাইলটকে ঘিরে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্ত সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওমানের নাগরিক ওই কো-পাইলট তেল আবিবের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার দাবি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পাওয়ার আগেই তিনি এ পরিকল্পনা করেছিলেন।
ইউএইয়ের প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ওই ফ্লাইটের কো-পাইলট জরুরি ক্র্যাশ কুড়াল দিয়ে মূল পাইলটকে আক্রমণ করেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুটি সূত্র কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি বলে জানিয়েছে। তবে ইউএই কর্তৃপক্ষ ও ফ্লাইদুবাই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি।
যাত্রী ও ক্রুরা কো-পাইলটকে কাবু করতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। ভারতীয় নাগরিক মূল পাইলট স্মিত মাচ্ছার হামলা থেকে বেঁচে যান। বিমানে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি। পরে বিমানে থাকা একজন রিজার্ভ পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করান। সেখান থেকে কো-পাইলটকে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, কো-পাইলট তেল আবিবগামী ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন খুঁজে ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরির আবেদন করেছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক সূত্রের দাবি, চলতি বছর এর আগে তিনি তেল আবিবগামী আরেকটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন এবং সেটিও ছিনতাই করে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
কো-পাইলট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডেও তিনি কিছু সময় কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় তদন্ত করছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, কো-পাইলট ‘চরমপন্থী ইসলামি মতাদর্শে’ প্রভাবিত ছিলেন। তবে তার এই দাবির পক্ষে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ