প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৫ পিএম

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ঋষিপাড়ায় সুশীল চন্দ্র ঋষি (৭০) নামে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে পাংশা মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এজাহারটি দায়ের করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাধন মণ্ডল (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুশীল চন্দ্র ঋষির বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দরজায় চর-থাপ্পড় মারেন এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে চলে যান।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সুশীল চন্দ্র ঋষির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। একই সঙ্গে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে আসামিরা সুশীল চন্দ্র ঋষির বাড়িতে ঢুকে টিনের বেড়া, দরজা ও জানালা কুপিয়ে ভাঙচুর করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের লোকজনের ডাক-চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী সুশীল চন্দ্র ঋষি দাবি করেন, পার্শ্ববর্তী গ্রামের ক্ষিরোদ কুমার ঋষির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পাংশা উপজেলার হিন্দু নেতারা বিষয়টি সমাধান করে দিলেও ক্ষিরোদ কুমার সব সময় তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার বিষয়ে সুশীল চন্দ্র ঋষি বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়িতে ঢুকেই বোমা ফাটান। এরপর টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। ভয়ে তিনি অন্য ঘরে চলে যান। পরে ঘরের ভেতর থেকে সোনাদানা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগেও রাতে এসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ এক প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি