
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের সময়ই ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশটির শিল্পাঞ্চল ও সম্মুখসারির বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলা হয়েছে। গ্রীষ্মকালজুড়ে রাশিয়া বিমান হামলা বাড়িয়েছে বলেও দাবি করেছে কিয়েভ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বন্দর, পণ্য পরিবহনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবকাঠামো এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে ইউক্রেনের অভিযোগ।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খামার, গুদাম, রেলপথ, জ্বালানি স্থাপনা ও আবাসিক ভবনে হামলা চালাচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের দনিপ্রো, ক্রিভি রিহ ও পাভলোহরাদ শহরের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। দনিপ্রো শহরে ইউক্রেনের বড় পাইপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারপাইপের একটি স্থাপনায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
খেরসন অঞ্চলে রুশ হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসার কাছে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের ক্রামাতোরস্কে রুশ বিমান হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। শহরটি সম্মুখসারির গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের ইজিয়ুম শহরে বড় ধরনের বিমান হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ২১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, রুশ তেল শোধনাগার ও বড় অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার উফা শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে শহরটির দূরত্ব ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটারের বেশি।
একই দিনে সামারা অঞ্চলের ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত কুইবিশেভ তেল শোধনাগারেও হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। সামারা অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের শিল্প ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, বন্দর অবকাঠামো এবং ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত জাহাজ ও সমুদ্রযান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি