
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রবেশের সময় কলিন্সকে দেখে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়।’
সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে জাতিসংঘে প্রবেশের সময় ট্রাম্প বলেন, সিএনএন সেখানে তার সংবাদ সংগ্রহ করতে আসায় তিনি অবাক হয়েছেন। তার দাবি, সিএনএন জানিয়েছিল তারা তার সংবাদ সংগ্রহ করবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি যে সিএনএন এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছে।’
তবে সম্প্রচারে ফিরে ট্রাম্পের বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেন কেইটলান কলিন্স। তিনি জানান, সিএনএন প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব গণমাধ্যমের কর্মীরা কার্যত হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে জাতিসংঘে নিয়মিত ক্রেডেনশিয়ালধারী গণমাধ্যম হিসেবে সিএনএনের প্রবেশের অনুমতি ছিল।
হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক দাবি করে সোমবার আদালতে যৌথ মামলা করেছে তিনটি সংবাদমাধ্যম। বুধবার বিকেলে এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য তার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। তিনি নেতিবাচক সংবাদ প্রচারকে ‘দেশের জন্য বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। আদালত হোয়াইট হাউসের বিপক্ষে রায় দিলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে আবারও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলিকে ‘অপেক্ষাকৃত কম নিরপেক্ষ’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি মনে করেন ‘ভুয়া খবর’ মুছে ফেলার অধিকার তাদের রয়েছে। তার এসব মন্তব্যের মধ্যেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রধান সংবাদমাধ্যমও সংহতি প্রকাশ করেছে। সিএনএনের জায়গায় অন্য কোনো নেটওয়ার্ককে বসানোর পরিবর্তে অন্যান্য নেটওয়ার্কগুলো সব ধরনের ‘পুল’ সংবাদ সংগ্রহ স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি সংবাদ সংস্থা প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে।
সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ব্লেয়ার সেন্টার ফর টেলিভিশন অ্যান্ড পপুলার কালচারের পরিচালক রবার্ট থম্পসন মনে করেন, সংবাদ সংগ্রহ না হওয়ার পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বিরূপ মন্তব্যগুলোকে তিনি গুরুতর ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি