প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৮ পিএম

নতুন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং দীর্ঘদিন সরকারি কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের সরকারি ক্রয় ও নির্মাণকাজের দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ বিষয়ে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ ২১ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে জারি হয়েছে।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২১তম বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশোধনের লক্ষ্য হিসেবে সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়নের কথা জানিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা ও উচ্চ বার্ষিক টার্নওভারের মতো শর্ত শিথিল করার বিষয়টি রয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক নতুন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে কাজের ধরন, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ খাতের দরপত্রে আলাদা শর্ত আরোপের সুযোগ থাকবে। সংশোধনীতে সরকারি ক্রয়ে পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা মূল্যায়নে অনুপাতভিত্তিক বা ‘রেটেড ক্রাইটেরিয়া’ ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রে বিদেশি ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের (জয়েন্ট ভেঞ্চার) বিষয়টিও সংশোধনীতে গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ানো এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
এ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে আরও বেশি প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং ক্রয়প্রক্রিয়া আধুনিক ও টেকসই হবে। পাশাপাশি সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করা এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থার সুযোগ রাখার বিষয়ও অধ্যাদেশে রয়েছে।
তবে নতুন বিধানগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে সতর্কতার কথাও বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কারিগরি সক্ষমতা ছাড়া কাউকে শুধু রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের কারণে সরকারি কাজের সুযোগ দেওয়া হলে নতুন ব্যবস্থাতেও অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ