প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৭ পিএম

কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় ও জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব সার আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। সার আমদানির অর্থ কৃষি ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডা থেকে দুই লটে মোট ৮০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি করা হবে। প্রতিটি লটে ৪০ হাজার টন করে সার থাকবে। দুই লটে মোট ব্যয় হবে ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।
কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে এই সার আমদানি করা হবে। চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফরমুলা অনুসরণ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে তৃতীয় ও চতুর্থ লটের সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার টন। এর মধ্যে কানাডা থেকে ৬ লাখ টন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার টন (+১০ শতাংশ) এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটি থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন সার আমদানি করা হয়েছে।
সৌদি আরব থেকেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন (+১০ শতাংশ) ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের চতুর্থ লটে এই সার আমদানি করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মোট আমদানি মূল্য ৩ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার এবং প্রতি টন ডিএপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮৫ মার্কিন ডলার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৯১ হাজার টন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৬ লাখ টন ডিএপি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। বিএডিসি ও সৌদি আরবের মা’আদেনের মধ্যে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডিএপি সার আমদানির জন্য ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তির প্রাইসিং ফরমুলা অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে চতুর্থ লটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন এমওপি আমদানিতে ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা, রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি আমদানিতে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি আমদানিতে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা। এসব সার কেনার অর্থ কৃষি ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ বাজেট থেকে ব্যয় করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি