
মিঠা পানির জলাভূমি নামে খ্যাত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে জেলেদের জালে এবারও ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ। ইতোপূর্বে এই হাওরে ইলিশ মাছ ধরা পড়লেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কয়েকগুণ বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে বলে মনে করছেন মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জেলেরা। এতে হাওর পারের জেলেদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে হাকালুকি হাওরে বেশ ইলিশ ধরা পড়েছিল। মাঝখানে আর তেমন দেখা মেলেনি। তবে এবার আবারও জেলেদের জালে অনেক ইলিশ ধরা পড়ায় তা স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে। ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালেও এই হাওরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল।
কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন জেলে হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ বিক্রি করছেন। সেখানে দেশীয় প্রজাতির মাছের সঙ্গে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে, সেগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।
কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মোঃ উমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়া জানান, গত রাতে হাওরে কয়েকজন মিলে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। ৪-৫ বার জাল টেনে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে। কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। এতে তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং আশা করছেন এবার অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে।
শিক্ষার্থী ফারদিন কাওসার তানিম ও ফাহমিদুর রহমান আবির জানান, "বাজারে দেশীয় মাছের সাথে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে শুনে দেখতে যাই। পরে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আসার পথে কুশিয়ারার ঘাট থেকে মাছ কেনার সময় ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ পেয়ে খুব ভালো লেগেছে।"
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে মিঠাপানিতে ইলিশের আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। হাকালুকি হাওর কুশিয়ারা নদীর সাথে সংযুক্ত থাকায় নদীতে অবস্থানরত ইলিশ অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর বেশি পরিমাণে হাকালুকিতে প্রবেশ করেছে।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সাথে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকায় প্রতি বছর হাওরে ছোট ছোট ইলিশ ধরা পড়লেও এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, "আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল যখন নামে, তখন হাকালুকি হাওরের পানি মূলত কুশিয়ারা নদী হয়ে পদ্মায় গিয়ে মিলিত হয়। ফলে ইলিশ মাছ প্রজননের জন্য স্রোতের বিপরীতে আসতে আসতে হাকালুকি হাওরে এসে পৌঁছায়। আগাম বন্যা হলেই এখানে ইলিশের দেখা মেলে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকিতে ইলিশ মাছের রেকর্ড উৎপাদন হবে।"
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর আয়তনের এই হাকালুকি হাওর দেশের বৃহত্তম। এর মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। একসময় রাণী মাছ, আইড়, শোল, গজার, বাঘা গুত্তম ও ইলিশ ছিল এই হাওরের ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন পর আবার ইলিশ মাছের দেখা মেলায় সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি