
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১ কোটি থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। শনিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের প্রভাব সপ্তাহে সপ্তাহে কমছে। মার্কিন নৌবাহিনীর তৈরি বিকল্প পথ ব্যবহারের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
১০৫ বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের দাবি
শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ১৪ জুলাই থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনরায় শুরুর পর ১০৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের প্রভাব আগের তুলনায় কমেছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
কেপলারের তথ্যে ভিন্ন চিত্র
তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের দেওয়া তথ্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১২টি।
কেপলারের হিসাবে, গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া জাহাজ চলাচলের তথ্যের সঙ্গে কেপলারের পরিসংখ্যানে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বৈশ্বিক তেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে।
১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর অল্প সময়ের জন্য প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়লে সেখানে জাহাজ চলাচল আবারও বাধাগ্রস্ত হয়।
নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ভিন্ন অবস্থান
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান ভিন্ন। তেহরান বলে আসছে, প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘খোলা ও সচল’ বলে দাবি করে আসছেন। সর্বশেষ মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যেও প্রণালিটি দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহনের কথা বলা হয়েছে।
তবে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন উৎসের তথ্যে পার্থক্য থাকায় হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরিসংখ্যানগত ভিন্নতা রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হওয়ায় এই জলপথের পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নজর রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি