
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ এবং সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এনএসডিএর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের জন্য নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকায় প্রশিক্ষণ ও সনদের কার্যকারিতা অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।
তার মতে, প্রশিক্ষণের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো ও সিলেবাস তৈরি করা গেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণের মানে সামঞ্জস্য আসবে। পাশাপাশি সনদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ানো সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।
ছোট কমিটির মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে এনএসডিএর গভর্নিং বডিকে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ জন্য অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির কথা বলা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে নির্ধারিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শ্রমবাজারের চাহিদায় নজর
সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও সভায় আলোচনায় আসে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সনদের মান ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুসংহত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এনএসডিএর ভূমিকা
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে। সংস্থাটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সভায় এনএসডিএর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণের মান একীভূত করা, শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা তৈরি এবং সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। অভিন্ন সিলেবাস ও সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের বাজারে তাদের সনদের স্বীকৃতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি