প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৫ পিএম

মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ একে অপরের পরিপূরক। যখনই জীবনে কোনো বিপদ বা মুসিবত আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এটি কি আমাদের পাপের শাস্তি, নাকি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ পরীক্ষা? ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর আলোচনা অনুযায়ী, পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বিপদের ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলা হয়েছে। এক আয়াতে বলা হয়েছে মানুষের বিপদ তাদের নিজেদের কৃতকর্মের ফসল (সুরা আর-রূম: ৪১), আবার অন্য আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ ভয়, ক্ষুধা বা জান-মালের ক্ষতির মাধ্যমে ঈমানদারদের পরীক্ষা করেন (সুরা বাক্কারা: ১৫৫)। তবে নবী-রাসুলগণ ওহির মাধ্যমে জানতে পারলেও, সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট বিপদকে নিশ্চিতভাবে ‘আজাব’ বা ‘পরীক্ষা’ হিসেবে আলাদা করার কোনো উপায় নেই।
এই অনিশ্চয়তার কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মুমিনের দ্বিমুখী বা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়া উচিত। প্রথমত, প্রতিটি বিপদকে নিজের ত্রুটি বা বদ আমলের ফল ধরে আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা মনে করে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং তাঁর ওপর অবিচল আস্থা রাখতে হবে। আমাদের সমাজে অন্যের বিপদ দেখে তাকে ‘পাপিষ্ঠ’ বা আল্লাহর গজবে পতিত বলে মন্তব্য করার যে প্রবণতা রয়েছে, ইসলামে তা অত্যন্ত গর্হিত ও অনুচিত বলে গণ্য করা হয়েছে।
পাশাপাশি, বিপদ থেকে মুক্তির আশায় সমাজে কিছু ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কারও প্রচলিত রয়েছে। যেমন—বিপদ কাটাতে মাজারের দানবাক্সে বড় অংকের অর্থ প্রদান করা, যা ইসলাম সমর্থন করে না। ওলি-আউলিয়ারা কখনো এমন শিক্ষা দেননি, কারণ বিপদ দূর করার একক মালিক একমাত্র আল্লাহ। অথচ অনেক সময় অসহায় দরিদ্র মানুষ বা মসজিদ-মাদ্রাসা অবহেলিত থাকলেও মানুষ ভুল আশায় মাজারে টাকা দিয়ে থাকে। পরিশেষে, বিপদ জীবনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এটি পাপ মোচন কিংবা ঈমান যাচাইয়ের মাধ্যম হতে পারে। তাই বিচলিত না হয়ে সঠিক দ্বীনি পথে চলা এবং বিপদে ধৈর্য ধরায় মুমিনের প্রকৃত পরিচয় নিহিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি