
পছন্দের মানুষকে বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত ও বিধান মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরিবার ও অভিভাবককে সম্পূর্ণ গোপন রেখে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে মুসলিম সমাজে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকার উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি কুরআন-হাদিসের আলোকে বলেন, বিবাহ ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সামাজিক চুক্তি। তাই আবেগের বশে পরিবারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
ইসলামী শরিয়তে বিবাহের অন্যতম মৌলিক বিষয় হলো ইজাব ও কবুল—অর্থাৎ এক পক্ষের প্রস্তাব এবং অপর পক্ষের তা গ্রহণ। পাশাপাশি বিবাহের সময় নির্ধারিত সংখ্যক যোগ্য সাক্ষীর উপস্থিতিও প্রয়োজন।
প্রচলিত হানাফি ফিকহের আলোচনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের বিবাহের বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখেন। তবে অভিভাবকের ভূমিকা, বরের উপযুক্ততা এবং অন্যান্য শর্তের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, অধিকাংশ সুন্নি ফকিহের মতে, নারীর বিবাহে ওলি বা অভিভাবকের সম্মতি ও উপস্থিতি আবশ্যক।
এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে অভিভাবকের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শুধু আদালতে গিয়ে কাগজে বিয়ে সম্পন্ন করলেই ইসলামী শরিয়তের সব শর্ত পূরণ হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
পরিবারের অমতে বিয়ে করার আগে বিয়ের ইজাব-কবুল, সাক্ষী, ওলি বা অভিভাবকের ভূমিকা, বর-কনের উপযুক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট মাজহাবের বিধান—সবকিছু যাচাই করা জরুরি। কারণ এসব শর্তের কোনোটি পূরণ না হলে বিয়ের বৈধতা নিয়ে শরিয়তসম্মত প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে বিয়ের আগে নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার ওপরও ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পছন্দ বা ভালোবাসা থাকলে সেটিকে বৈধ পথে নেওয়ার জন্য পরিবারকে জানানো, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং শরিয়তের নিয়ম মেনে বিয়ে সম্পন্ন করাই নিরাপদ পথ।
তবে কোনো নির্দিষ্ট বিয়ে ইতোমধ্যে হয়ে গেলে সেটি বৈধ হয়েছে কি না—শুধু ‘পরিবার জানত না’ এই একটি তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। বিয়ের সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, ইজাব-কবুল কীভাবে হয়েছে, সাক্ষী ছিলেন কি না, বর-কনের প্রাপ্তবয়স্কতা, ওলি বা অভিভাবকের ভূমিকা এবং কোন ফিকহি মত অনুসরণ করা হয়েছে—এসব তথ্য বিবেচনা করতে হবে।
তাই এমন পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্তে বিয়ে বাতিল বা পুনরায় বিয়ে করার বদলে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছে পুরো ঘটনা জানিয়ে ব্যক্তিগতভাবে শরিয়তসম্মত ফতোয়া নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি