
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরা। এতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পাশাপাশি সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টায় ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করা হবে। এর আগে রয়টার্স চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, সম্মেলনে নেতারা ঘোষণাপত্রটি অনুমোদন করতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষণাপত্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্রিকসের কূটনীতিকেরা কয়েক দফা আলোচনার পর এমন একটি ভাষায় সম্মত হয়েছেন, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই দেশই গ্রহণ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
চলমান যুদ্ধের মধ্যে আগস্টে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতের ভূখণ্ডেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা যায়নি। ফলে এবার সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠাকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলায় দেশটি সংলাপ ও কূটনীতিকে সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে তুলে ধরছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে ব্রিকসের। জোটের কয়েকটি সদস্যদেশ বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব তুলনামূলক বেশি।
নয়াদিল্লি সম্মেলনে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও জোটটির অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ