প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম

মানুষের হাঁটার গতি অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কত কদম হাঁটা উচিত, তা নিয়ে নানা ধরনের পরামর্শ প্রচলিত থাকলেও নতুন গবেষণা বলছে, শুধু হাঁটার পরিমাণ নয়—হাঁটার গতিও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের ‘ইউকে বায়োব্যাংক’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন’-এ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটা এবং হাঁটার গতি—দুটিই যেকোনো কারণে মৃত্যু ও হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমার সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষকরা ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা টানা সাত দিন শরীরে গতিবিধি পরিমাপের যন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। ৪০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী মোট ৬৪ হাজার ৭৪৩ জনের তথ্য এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার কদম হাঁটলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমার সঙ্গে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে হাঁটার গতি তুলনামূলক ধীর হলেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে যারা প্রতিদিন বেশি কদম হাঁটার সুযোগ পান না, তাদের জন্যও রয়েছে আশাব্যঞ্জক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, মোট কত কদম হাঁটা হচ্ছে সেটি বিবেচনায় না নিয়েও প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুতগতিতে হাঁটার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দ্রুত হাঁটার একটি মাত্রা হিসেবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৯০ কদম হাঁটার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ব্যস্ততা বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় হাঁটা সম্ভব না হলেও হাঁটার গতি কিছুটা বাড়ানো স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। কম সময়ে তুলনামূলক দ্রুত হাঁটা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধীরে হাঁটার কাছাকাছি স্বাস্থ্যগত সুফল দিতে পারে।
গবেষণার মূল বার্তা হলো—সুস্থ থাকার জন্য শুধু কতটা হাঁটছেন, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়; কী গতিতে হাঁটছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সম্ভব হলে ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়ানো উপকারী হতে পারে।
তবে গবেষণাটি মূলত পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায় দ্রুত হাঁটাই সরাসরি অকালমৃত্যু কমায়—এমন নিশ্চিত কারণ-ফল সম্পর্ক এখান থেকে প্রমাণ করা যায় না। তাই নিজের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা বিবেচনা করে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে ভালো।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি