বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
এক কিউআরে বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেন, দৈনিক ১২০ কোটি টাকা
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০২ পিএম

দেশে ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই ব্যবস্থায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৭০০ কোটি টাকা।

বাংলা কিউআরের ব্যবহার শুধু অর্থের পরিমাণেই নয়, লেনদেনের সংখ্যার দিক থেকেও দ্রুত বাড়ছে। জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে পৌঁছায়। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় তিন গুণ হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নিজেদের পৃথক কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআরের আওতায় আসে।

এর ফলে বড় শপিংমল থেকে ছোট দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ী—সবাই একটি অভিন্ন কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের গড় আর্থিক মূল্য বেড়ে হয় প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত যেখানে এ ব্যবস্থার আওতায় ব্যবসায়ী ছিলেন প্রায় ১৬ লাখ, পরে তা বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে এই লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। লেনদেনের এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নিয়ে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে বলে জানান আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে যদি ৯৯ টাকা পান, তাহলে এক টাকা কেন কম পাবেন—এমন প্রশ্ন তার মনে আসতে পারে। তবে ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেনের পরিধি বাড়লে ব্যবসায়ীদের বিক্রিও বাড়তে পারে।

তার মতে, নগদ অর্থের পরিবর্তে সহজে ডিজিটাল পেমেন্টের সুযোগ থাকলে ক্রেতারা বেশি কেনাকাটায় উৎসাহিত হতে পারেন। ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশ ব্যাংক বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে বাংলা কিউআরের লেনদেন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমেছে। আগে নির্দিষ্ট সেবার কিউআর কোড না থাকলে অনেক দোকানে গিয়ে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হতো।

রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা তুহিন ইসলাম জানান, আগে কোনো দোকানে টাকা দেওয়ার সময় সেখানে কোন প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড রয়েছে, তা দেখে নিতে হতো। তিনি একটি নির্দিষ্ট এমএফএস ব্যবহার না করায় অনেক সময় অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়তেন। এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই নিজের পছন্দের হিসাব থেকে টাকা দিতে পারছেন।

ঢাকায় পাইকারি পণ্য কিনতে আসা মাহিন হোসেন বলেন, আগে গ্রাম থেকে রাজধানীতে আসার সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বহন করতে হতো, যা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বাংলা কিউআর ব্যবহারের ফলে এখন সহজেই ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।

মতিঝিলের ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ী রায়হানুল ইসলাম জানান, দামি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ গ্রহণে নানা ঝামেলা থাকে। বাংলা কিউআর ব্যবহারের কারণে এখন ক্রেতার কাছ থেকে সহজেই অর্থ নেওয়া যাচ্ছে।

আজিমপুরের জুস বিক্রেতা আলতাফ হোসেনও বাংলা কিউআর ব্যবহারে সুবিধার কথা জানিয়েছেন। তার দোকানে অনেক ক্রেতা খুচরা টাকা না থাকায় সমস্যায় পড়তেন। এখন কিউআরের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার সুযোগ থাকায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে।

ডিজিটাল লেনদেন সহজ করা, নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো এবং গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্য অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করাই বাংলা কিউআর ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। সাম্প্রতিক লেনদেনের প্রবৃদ্ধি থেকে দেখা যাচ্ছে, অভিন্ন এই কিউআর ব্যবস্থা দেশের দৈনন্দিন কেনাকাটায় ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।




স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close