
দুর্বল মার্কিন ডলারের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। এই তথ্যের ওপর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তের দিকনির্দেশনা মিলতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী সকাল ৪টা ১৯ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪১৪ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর কিছুটা কমেছে। এ দর ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৫৭ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে।
মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যানের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তথ্য থেকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে নাকি বর্তমান অবস্থায় অপরিবর্তিত রাখবে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সুদের হার কমার সম্ভাবনা বাড়লে সাধারণত ডলার ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশে কমেছে স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেও বাংলাদেশের বাজারে সম্প্রতি স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা কমানো হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর একই মানের স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। ফলে দুই দফায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে মোট দাম কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
নতুন দাম বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বর্তমানে ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।
তবে একই সময়ে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্ববাজারে ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত—এই দুই বিষয় আগামী দিনে স্বর্ণের দামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি