
খুলনায় দুই ট্রাক থেকে সিগারেট তৈরির মেশিন, ১ হাজার ২৭৫ কেজি কাটিং তামাকসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, প্রাথমিক যাচাইয়ে জব্দ করা মালামাল দেখে সিগারেট উৎপাদনের জন্য মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ কারখানার সেটআপ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
বুধবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রাক দুটি আটক করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনার অধিক্ষেত্রাধীন ভ্যাট বিভাগ, বাগেরহাট।
আটক ট্রাক দুটির নম্বর ক-বগুড়া-ট ১১-০৭১৪ এবং ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-২৬৪০।
ট্রাক দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি মেকিং মেশিন, একটি প্যাকিং মেশিন, ৫০টি প্লাস্টিকের ক্যারেট, একটি জেনারেটর, ৫১ বস্তা কাটিং তামাক, ৭৬ রোল সিগারেট পেপার, পাঁচ কার্টন ফিল্টার পেপার এবং তিন ড্রাম গাম বা আটা পাওয়া যায়।
জব্দ করা ৫১ বস্তা কাটিং তামাকের প্রতিটি বস্তায় ছিল ২৫ কেজি করে। অর্থাৎ মোট জব্দ করা তামাকের পরিমাণ ১ হাজার ২৭৫ কেজি।
এ ছাড়া অভিযানে ৫৪ রোল ফয়েল পেপার, প্যাকেট তৈরির কাগজের ছয় বক্স, একটি হাওয়ার ট্যাংক এবং ১০০ পিস স্কচটেপ জব্দ করা হয়েছে। মেকিং ও প্যাকিং মেশিন দুটিও দুই অংশে পাওয়া যায়।
এনবিআরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জব্দ করা সরঞ্জামগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করলে সিগারেট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ উপকরণ ও যন্ত্রপাতি সেখানে ছিল। এ কারণে এটিকে মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ সিগারেট কারখানার সেটআপ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এসব সরঞ্জাম কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এগুলো দিয়ে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদনের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো তদন্ত ও যাচাই-বাছাই চলছে।
এনবিআর জানিয়েছে, আটক ট্রাক ও জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
জব্দ করা মালামাল বিধি অনুযায়ী এনবিআরের সদর দপ্তরের কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি