বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      মিছিলের চেষ্টা, ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক      
৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সার্বভৌম বন্ডে যাওয়ার পরামর্শ
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম

আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বন্ড ছাড়ার সম্ভাব্যতা যাচাই, বাজার নির্বাচন ও কৌশল নির্ধারণে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং সরকারি অর্থায়নের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিদেশি স্থির-আয় ও ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে গত জুলাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গণিকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

বন্ডের মোট পরিমাণ, কোন মুদ্রায় কত অর্থ সংগ্রহ করা হবে, মেয়াদ, সুদের কাঠামো, ইস্যুর সময় এবং কোন বাজারে বন্ড ছাড়া হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কমিটির সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। কমিটির কাজের পাশাপাশি এখন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে জেপি মরগানকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সার্বভৌম বন্ড আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ সংগ্রহের একটি বিকল্প মাধ্যম। তবে এ ধরনের বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সুদের হার, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রায় দায় পরিশোধের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ডের আকার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অর্থের উৎসে বৈচিত্র্য আনার অংশ হিসেবেও সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ছাড়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময়, মুদ্রার ধরন, সুদের হার এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার কৌশল নির্ধারণে জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার।

বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সাড়া যাচাই করতে প্রাথমিকভাবে তুলনামূলক ছোট অঙ্কের ইউএস ডলার ডেনোমিনেটেড বন্ড ইস্যুর চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চীনের বাজারে ‘পান্ডা বন্ড’ ছাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

অতীতে আর্জেন্টিনা ও শ্রীলঙ্কার মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বড় অঙ্কের সার্বভৌম ঋণ নিয়ে সংকটে পড়েছে। এসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ কোনো ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক ঝুঁকিতে যেতে চায় না। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রায় সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের বাজারে ডলার বন্ড, চীনের বাজারে পান্ডা বন্ড এবং জাপান ও হংকংয়ের বাজারে সংশ্লিষ্ট মুদ্রায় বন্ড ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ কারণে জেপি মরগানের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে জেপি মরগানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, পরামর্শক নিয়োগের জন্য ব্যয় হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশ সফলভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করতে পারলে এটি দেশের জন্য একটি গ্লোবাল প্রাইসিং বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দেশের বেসরকারি খাত ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক সহজে এবং কম সুদে বৈদেশিক ঋণ বা তহবিল সংগ্রহের সুযোগ পেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলক কম। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকেও দেশ ঋণ নিয়ে থাকে এবং বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। বন্ড থেকে পাওয়া অর্থ সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ে ব্যবহার করতে পারবে।

৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে রাখার পরামর্শ

আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর আকার ও শর্ত নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার।

তিনি বলেন, সার্বভৌম বন্ড আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আরেকটি মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে সরকারের সার্বভৌম নিশ্চয়তা থাকে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারের নিশ্চয়তা থাকে। তবে সার্বভৌম বন্ডে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন বিনিয়োগকারী বন্ড কিনে থাকেন।

জায়েদী সাত্তারের মতে, সার্বভৌম বন্ডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কী সুদের হারে তা ইস্যু করা হচ্ছে। কারণ নির্দিষ্ট সময় পর বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রায় দায় তৈরি হয়। তাই বন্ড ছাড়ার আগে দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এবং ভবিষ্যৎ দায় পরিশোধের সক্ষমতা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেক দেশ সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে পরবর্তী সময়ে সংকটে পড়েছে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তেমন নয় এবং এখন দেশের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা ভালো রয়েছে।

বাংলাদেশকে শুরুতেই বড় অঙ্কের সার্বভৌম বন্ডে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে জায়েদী সাত্তার বলেন, ২০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। এখনই এক বিলিয়ন ডলারের বন্ডে যাওয়া ঠিক হবে না।

শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পর দেশটি সংকটে পড়ে এবং একপর্যায়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য বন্ডের আকার নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা পরিশোধের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

কমতে পারে অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপ

সার্বভৌম বন্ডের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন জায়েদী সাত্তার। তার মতে, সরকার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে গিয়ে ‘ক্রাউডিং আউট’ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার্বভৌম বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হলে দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তার মতে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির মতো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ সময়মতো পাওয়া না গেলে বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে সার্বভৌম বন্ড বিবেচনা করা যেতে পারে।

আইএমএফের ঋণের একটি অংশ না পাওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জায়েদী সাত্তার বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগের সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও কমিটমেন্টের বিষয়গুলো নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে আইএমএফের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কারও এগিয়ে নেওয়া দরকার।

পান্ডা বন্ডে বিশেষ আগ্রহ

সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনায় চীনের ‘পান্ডা বন্ড’কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে চীনা সরকার বাংলাদেশকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পান্ডা বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব দেয়।

এ বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, ইআরডি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে দুই দেশের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতেও পান্ডা বন্ড চালুর উদ্যোগের বিষয়ে দুই দেশের সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়।




স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close