বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
Kaaktaal কীভাবে একটি প্রজন্মের সাউন্ডট্র্যাক হয়ে উঠল
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ৩:৩৭ PM

কিছু গান জীবনের নির্দিষ্ট একটি সময়ের সঙ্গে চিরতরে জড়িয়ে যায়। প্রথমবার কোথায় শুনেছিলেন, পাশে কে ছিলেন, কোন রাস্তায় হাঁটছিলেন কিংবা তখন ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, ঘর ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী বিশ্বাস করতেন—সবকিছুই সেই গানের সঙ্গে মিশে যায়। আবার কিছু গান আছে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকে। মানুষ বদলায়, জীবন বদলায়, কিন্তু গানটি থেকে যায়। বদলে যায় শুধু গানটির অর্থ।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেক শ্রোতার কাছে Kaaktaal ঠিক তেমনই এক ব্যান্ড। তাদের গান মানুষের জীবনে এসেছে অনেকটা নিঃশব্দে—বন্ধুর মাধ্যমে, ছোট ছোট লাইভ শোতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিংবা দীর্ঘ যাত্রায় হেডফোনে। কখনো গভীর রাতে, কখনো বৃষ্টির দিনে, আবার কখনো নির্দিষ্ট কোনো বিষণ্নতার সময়ে এসব গান হয়ে উঠেছে নীরব সঙ্গী।

Kaaktaal-এর গানের জগতে আছে গিটার ও বাঁশির সুর, বৃষ্টি ও রাস্তা, পুরোনো বাড়ি ও চাঁদের আলো, ফুল-পাখি, অপেক্ষা, আকাঙ্ক্ষা ও এক ধরনের মেনে নেওয়া। তাদের সংগীতের বিন্যাসে এমন এক অন্তরঙ্গতা আছে, যেখানে গানের পেছনের মানুষটিকেও যেন অনুভব করা যায়।

এই অন্তরঙ্গতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—গানগুলো শ্রোতার জন্য জায়গা রেখে দেয়। তাই ‘Abar Dekha Hole’ শুধু পুনর্মিলনের গান হয়ে থাকে না। কারও কাছে এটি হারানো প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, কারও কাছে বহু দূরে চলে যাওয়া বন্ধুর স্মৃতি। আবার কারও কাছে এটি নিজের ফেলে আসা শহর কিংবা জীবনের পুরোনো কোনো অধ্যায়ে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

বয়স বাড়ার সঙ্গে ‘আবার দেখা হওয়া’ ধারণাটিও বদলে যায়। মানুষ দূরে সরে যায়, সম্পর্কের রূপ পাল্টায়, শহর বদলে যায়, শৈশবের বাড়ি অন্য কারও হয়ে যায়। একসময় যাকে ভালোবাসা হয়েছিল, সে হয়তো এখন কেবল একটি মুখের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি। ‘Abar Dekha Hole’ এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বেঁচে থাকে—আবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনাকে ধরে রাখে, কিন্তু সেই দেখা কীভাবে বা কখন হবে, তার উত্তর শ্রোতার ওপর ছেড়ে দেয়।

‘Chorki’-তেও একই ধরনের আবেগের বহুমাত্রিকতা দেখা যায়। একজন শ্রোতা এখানে একজন মানুষকে খুঁজে পেতে পারেন, অন্য কেউ খুঁজে পেতে পারেন একটি হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি। কেউ আবার কয়েক মিনিটের একটি গানে নিজের জীবনের একটি পুরো সময়কে ফিরে পেতে পারেন।

নস্টালজিয়া আসলে কোনো একটি মুহূর্তকে একা মনে করা নয়। একটি ঘরের আলো, বৃষ্টির পরের রাস্তা, পরিচিত কোনো কণ্ঠ কিংবা অল্প বয়সে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে থাকা অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়েই তৈরি হয় স্মৃতি। ‘Chorki’ সেই ধরনের স্মৃতির জন্য একটি আবেগের পাত্র হয়ে উঠতে পারে।

এরপর আসে ‘Ghorchara’। বড় হয়ে ওঠার সবচেয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হলো—একসময় নিজের ঘরই স্মৃতিতে পরিণত হয়। বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি শুধু ভৌগোলিক নয়; এর সঙ্গে বদলে যায় নিজের পরিচয়ের অনুভূতিও।

যারা পড়াশোনার জন্য নিজের শহর ছেড়েছে, ঢাকায় এসেছে, আবার ঢাকা ছেড়ে অন্য কোথাও গেছে, কিংবা সময়ের সঙ্গে বন্ধুদের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যেতে দেখেছে—তাদের কাছে ‘Ghorchara’ ভীষণ ব্যক্তিগত হয়ে উঠতে পারে। এটি কেবল কোনো জায়গা ছেড়ে যাওয়ার গান নয়; বরং পুরোনো নিজেকে সঙ্গে নিয়ে নতুন মানুষ হয়ে ওঠার গল্প।

Kaaktaal সাধারণ বিষয়গুলোর মধ্যেও এমন আবেগ খুঁজে নেয়। একটি বাসস্টপ হয়ে ওঠে পরিবর্তনের প্রতীক, পুরোনো বাড়ি ধারণ করে স্মৃতি ও পরিত্যক্ততার অনুভূতি, চাঁদের আলো কঠিন সময়ের মধ্যেও সৌন্দর্যের ইঙ্গিত দেয়। রাস্তা হয়ে ওঠে নীরব সঙ্গী, আর বৃষ্টি বহন করে পরিবর্তনের আবেগ।

‘Shiuli’ বিশেষভাবে ক্ষণস্থায়িত্বের কোমলতাকে ধারণ করে। শিউলি নীরবে ফোটে, অল্প সময়ের মধ্যেই ঝরে পড়ে। এই ফুলের মতো জীবনের কিছু সম্পর্ক, যত্ন, ভালোবাসা ও ছোট ছোট ত্যাগও কখনো কোনো বড় ঘোষণা ছাড়াই আমাদের জীবনে এসে যায় এবং একসময় স্মৃতির অংশ হয়ে থাকে। ফলে গানটি একই সঙ্গে হারানোর অনুভূতি এবং যা কিছু একসময় ছিল তার প্রতি কৃতজ্ঞতা তৈরি করে।

Kaaktaal-এর বিষণ্নতা তাই কেবল দুঃখ তৈরি করে না; বরং দুঃখকে বসার জন্য একটি জায়গা দেয়।

‘Golokdhadha’ সেই আবেগকে আরও ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়। গোলকধাঁধা মানেই ঘুরপাক, বিভ্রান্তি, একই জায়গায় ফিরে আসা এবং বের হওয়ার পথ খোঁজা। এই ধারণাটি নিজের পরিচয় খোঁজার প্রতীক হিসেবেও কাজ করে।

জীবনে আমরা ক্যারিয়ার, সম্পর্ক, শহর, বন্ধুত্ব ও পরিচয় বেছে নিই—ভাবি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত হয়তো আমাদের আরও পরিষ্কার কোনো জায়গায় নিয়ে যাবে। কিন্তু জীবন বারবার সেই মানচিত্র বদলে দেয়। কখনো নিজেকে খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি, আবার কখনো আয়নায় দেখা মানুষটিকেই অচেনা মনে হয়।

একই সঙ্গে কাউকে ভালোবেসেও সম্পর্কের পরিবর্তন মেনে নেওয়া, কিছু আঁকড়ে ধরে থেকেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়া কিংবা নিশ্চয়তা চেয়েও অজানার দিকে আকৃষ্ট হওয়া—এসব দ্বন্দ্বই মানুষের নিজস্ব গোলকধাঁধা তৈরি করে। ‘Golokdhadha’ সেই ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের জন্য শ্রোতাকে নিজের মানচিত্র আঁকার সুযোগ দেয়।

‘Udhao’ হারিয়ে যাওয়া নিজের কোনো পুরোনো সংস্করণের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। ‘Kichu Nei’ বহন করে শূন্যতা, অসহায়ত্ব এবং এক ধরনের নিঃশব্দ আত্মনির্ভরতার অনুভূতি।

Kaaktaal-এর গানগুলোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই—তারা শ্রোতার জন্য দরজা খোলা রাখে। ফলে প্রত্যেকে নিজের জীবনের গল্প দিয়ে গানগুলোকে নতুন করে অর্থ দিতে পারেন।

একজনের কাছে ‘Abar Dekha Hole’ নির্দিষ্ট কোনো মানুষের স্মৃতি, অন্যজনের কাছে বহু বছর পর নিজের পুরোনো সত্তার সঙ্গে দেখা হওয়ার অনুভূতি। ‘Chorki’ কারও কাছে প্রেমের গল্প, আবার কারও কাছে হারিয়ে যাওয়া একটি সময়। ‘Ghorchara’ কারও কাছে বাড়ির জন্য হাহাকার, কারও কাছে অভিবাসনের নিঃসঙ্গতা, আবার কারও কাছে শুধু এই উপলব্ধি—শৈশব শেষ হয়ে গেছে।

এই কারণেই Kaaktaal কেবল কিছু গান তৈরি করেনি; তারা একটি প্রজন্মকে নিজেদের স্মৃতি, বিচ্ছেদ, বেড়ে ওঠা এবং পরিবর্তনের শব্দ খুঁজে নিতে সাহায্য করেছে। গানগুলো একই রয়ে গেছে, কিন্তু প্রতিটি শ্রোতা সময়ের সঙ্গে তার ভেতরে নিজের নতুন গল্প আবিষ্কার করেছেন।

স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  কাকতাল প্রজন্মেরগান বাংলাব্যান্ড   






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close