
বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের অভিন্ন পরিবেশগত স্বার্থ ও সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষা, আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দুই দেশের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। একইভাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভাও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণ নিয়ে পরবর্তী সভা ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সবুজ অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সমস্যা, বিশেষ করে বায়ুদূষণ ও নদীদূষণ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মতো সমস্যাগুলো কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের কল্যাণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনসহ দুই দেশের অভিন্ন প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সুন্দরবন দুই দেশের একটি অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। এ বন ও এর বন্যপ্রাণী রক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি