
সকালের নাশতায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। প্রোটিন পেশি গঠন ও মেরামত, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখা এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে কোনো খাবারের প্যাকেটে শুধু ‘হাই প্রোটিন’ লেখা থাকলেই সেটিকে স্বাস্থ্যকর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বর্তমানে বাজারে প্রোটিন কুকিজ, প্রোটিন বার, প্রোটিন চিপস, প্রোটিন সিরিয়ালসহ নানা ধরনের প্যাকেটজাত খাবার পাওয়া যায়। এসব পণ্যের মোড়কে প্রোটিনের পরিমাণ বড় করে তুলে ধরা হলেও একই খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ চিনি, চর্বি, ক্যালোরি, সোডিয়াম কিংবা কৃত্রিম মিষ্টি থাকতে পারে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটের সামনের দিকে থাকা ‘উচ্চ প্রোটিন’ দাবিটি অনেক সময় ক্রেতার মনে পণ্যটি স্বাস্থ্যকর—এমন একটি ধারণা তৈরি করে। ফলে অনেকে পুষ্টি উপাদানের বিস্তারিত তালিকা না দেখেই খাবারটি কিনে ফেলেন। পুষ্টিবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে ‘হেলথ হ্যালো এফেক্ট’ বা স্বাস্থ্যকর বলয় প্রভাব বলা হয়।
‘২০ গ্রাম প্রোটিন’ মানেই স্বাস্থ্যকর নয়
ধরা যাক, একটি কুকিজে ২০ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। কিন্তু একই পণ্যে যদি অতিরিক্ত চিনি, বেশি ক্যালোরি বা চর্বি থাকে, তাহলে শুধু প্রোটিনের পরিমাণের কারণে সেটিকে স্বাস্থ্যকর খাবার বলা যাবে না।
প্রোটিন অবশ্যই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এটি পেশির বৃদ্ধি ও মেরামত, তৃপ্তি এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রোটিনের পাশাপাশি খাবারটির অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও বিবেচনা করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার বাছাইয়ের সময় শুধু প্যাকেটের সামনের অংশে থাকা দাবি নয়, বরং পেছনের পুষ্টি উপাদানের তালিকা ভালোভাবে দেখা উচিত।
নাশতা কেনার আগে যা দেখবেন
প্রোটিনসমৃদ্ধ কোনো প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে এর প্রোটিনের উৎস কী, তা খেয়াল করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এতে কত পরিমাণ চিনি, ক্যালোরি, চর্বি, সোডিয়াম ও ফাইবার রয়েছে, সেটিও দেখা দরকার।
একই সঙ্গে খাবারের উপাদান তালিকায় অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত উপাদান বা কৃত্রিম মিষ্টির ব্যবহার রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া ভালো।
অর্থাৎ ‘হাই প্রোটিন’ লেবেলকে স্বাস্থ্যকর খাবারের সনদ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—প্রোটিনের সঙ্গে আর কী কী উপাদান শরীরে যাচ্ছে?
প্রাকৃতিক উৎসকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো
প্রোটিনের প্রয়োজন মেটাতে ডিম, দুধ ও দই, মাছ, মাংস, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
সকালের নাশতায় প্রোটিন রাখা উপকারী হলেও খাবারটি যেন সামগ্রিকভাবে সুষম হয়, সেদিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু একটি পণ্যের গায়ে লেখা ‘হাই প্রোটিন’ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো পুষ্টিগুণ যাচাই করেই নাশতা বেছে নেওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি