
ঝালকাঠিতে বিধি না মেনে চলছে ২৫ অবৈধ ইটভাটা
ঝালকাঠি জেলায় সরকারি বিধিবিধান না মেনেই প্রতি বছর বাড়ছে ইটভাটা। এসব ইটভাটার কারণে গ্রামীণ পরিবেশ দ্রুত অবনতি হচ্ছে। জেলার চারটি উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ মিলে ইটভাটার বিস্তার বেড়েই চলেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী জেলার ৪৭টি ইটভাটার মধ্যে বর্তমানে ২২টি বৈধ, যার মধ্যে ৩টি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা বৈধকে ছাড়িয়ে ২৫টিতে পৌঁছেছে। মৌসুম শুরু হওয়ায় ভাটাগুলোতে কাঁচা ইট তৈরি করে শুকানো হচ্ছে।
ইটভাটাগুলো পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। এতে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অবৈধ ইটভাটায় নিয়ম ভেঙে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির ও পরিস্তর কেটে ভাটায় আনা হচ্ছে। জমির এই কাটা অংশ পরে পলিতে ভরাট হয়, এরপর আবারও মাটি কাটা হয়, ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
গ্রামে এলজিইডির সড়ক বেশি হওয়ায় এসব সড়কের কাছাকাছি গড়ে উঠছে ইটভাটা। ইট পরিবহনের কারণে এসব সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রলিতে ইট পরিবহনের সময় কাভার ব্যবহার করা হয় না, আর ভাটায় পানি না ছিটানোর ফলে ধুলো বাতাসে ছড়িয়ে বায়ুদূষণ বাড়ছে। কাঠ পোড়ানোর ফলে কালো ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে পড়ছে এবং এর প্রভাবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জেলায় অবৈধ ২৫টি ইটভাটা :
উত্তর কৃষ্ণকাঠির মেসার্স এ করিম ব্রিকস, এনটিসি ব্রিকস, বাউকাঠি মেসার্স স্টার ব্রিকস, সদরের চৌপালার মেসার্স মাহাদী ব্রিকস, নলছিটির রামচন্দ্রপুরের মেসার্স ঝালকাঠি ব্রিকস (গাজী), গৌরিপাশার রিয়াজ ব্রিকস–১, প্রতাপের রিয়াজ ব্রিকস–২, সরই গ্রামের রিয়াজ ব্রিকস–৩, সারদলের এমএমআর–১ ব্রিকস, জাগুয়ার হাটের এম এম ব্রিকস, সরমহলের সরদার ব্রিকস, কাছারিপাড়ার মুন ব্রিকস, সরমহলের থ্রি স্টার ব্রিকস, অনুরাগের তিলক ব্রিকস, আমিরাবাদের এমবিএল ব্রিকস, কাঁঠালিয়ার উত্তর আউরা গ্রামের ত্বাহা ব্রিকস, রগুয়ার দড়ি চর এলাকার জিজিবি ব্রিকস, এএসবি–১ ও এএসবি–২ ব্রিকস, তালগাছিয়ার এসসি ব্রিকস, একই এলাকার এসবি ব্রিকস, রাজাপুরের কানুদাসকাঠির সেভেন স্টার ব্রিকস এবং আঙ্গারিয়া গ্রামের হাওলাদার রিয়েল স্টেট ব্রিকস।
বৈধ ২২টি ইটভাটা :
সদরের দক্ষিণ পিপলিতার মেরি ব্রিকস, বাদলকাঠির হাসিব এন্টারপ্রাইজ ব্রিকস, গাবখানের ফাইভ স্টার ব্রিকস, লেশপ্রতাপের আরআরএস ব্রিকস, কৃষ্ণকাঠির ফোর স্টার ব্রিকস, বাউকাঠির সরদার এন্টারপ্রাইজ, কৃষ্ণকাঠির এনটিসি ব্রিকস, কুনিহারির এমআরবি ব্রিকস, লেশপ্রতাপের নুরুজ্জামান ব্রিকস, রাজাপুরের চর সাঙ্গরের আকন ব্রিকস, উত্তমপুরের বড়ইয়া ব্রিকস, উত্তমপুর ব্রিকস, নৈকাঠির জাফরাবাদ ব্রিকস (বন্ধ), নলছিটির গোদন্ডায় মেসার্স শুকতারা ব্রিকস, কয়ায় ফোর স্টার ব্রিকস, দপদপিয়ার নুর ব্রিকস অ্যান্ড কোম্পানি, ঢাপড় এলাকার এআরএম ব্রিকস–এ ও এআরএম ব্রিকস–বি, কয়ায় আলীনগর অটো ব্রিকস (বন্ধ), দপদপিয়ার থ্রি স্টার ব্রিকস, হাওলাদার ব্রিকস, ডুবিল গ্রামের যমুনা ব্রিকস (বন্ধ)।
ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের মতে, বারবার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কাঁচা ইট ধ্বংস করা হলেও তারা পুনরায় ভাটা চালু করে। ইটভাটার মালিক ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্বশীল না হলে ইটভাটার আগ্রাসন ঠেকানো যাবে না।