প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে পরপর কয়েকটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে পৌঁছেছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এএফপির প্রতিবেদন মতে, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে গত শনিবার (১৫ নভেম্বর) জাভা দ্বীপের মধ্যাঞ্চলের বানজারনেগারা জেলায় বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪৮টি বাড়ি ধ্বংস হয়। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
ভূমিধসের পরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সি (বিএনপিবি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুখপাত্র আবদুল মুহারি বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী ইউনিট এবং স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠীর ৭০০ জনেরও বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, বানজারনেগারায় উদ্ধারকারীরা আরও সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ফলে সেখানে মৃতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই জেলায় এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছে।
পৃথক ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিলাকাপ জেলার তিনটি গ্রামে ভূমিধস ঘটে। এতে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান বর্ষা মৌসুমে জাভা দ্বীপপুঞ্জজুড়ে নিয়মিতভাবে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে।
কর্মকর্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝড়ের ধরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ঝোড়ো হাওয়ার তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুখপাত্র মুহারি জানান, পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার দূরবর্তী পাপুয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ