প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:০৪ পিএম

দেশের লবণের প্রায় ৮৭ শতাংশ উৎপাদন হয় কক্সবাজার উপকূলে। এক সময়ের সম্ভাবনাময় এ স্থানীয় শিল্পটি বর্তমানে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চাষিরা প্রতিমণে প্রায় ২৬০ টাকা লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছেন।
মাঠপর্যায়ের লবণচাষী নূর হোসেন জানান, বর্তমানে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ১৩০–১৫০ টাকায়, যেখানে উৎপাদন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকা। লোকসানের ভয়েই অনেকে মৌসুম শুরু করতে সাহস পাচ্ছেন না। যারা শুরু করেছেন, তারাও চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাবউদ্দিন বলেন, বিদেশি সোডিয়াম সালফেট বাজারে প্রবেশ করায় স্থানীয় লবণ শিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে। তার দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং বিসিকের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।
লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিশেষজ্ঞ শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক মনে করেন, টেকসই উৎপাদনের জন্য ব্যয় কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং একরপ্রতি ফলন বাড়ানোর বিকল্প নেই। সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নীতিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শিল্পটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
বিসিক কক্সবাজারের পরিচালক জাফর ইকবাল বলেন, অনেক চাষি পদ্ধতিগত ভুলের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি চাষিদের নির্দেশনা অনুসরণ করে চাষাবাদ করার পরামর্শ দেন।
সম্প্রতি কক্সবাজার সফরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান মিল মালিক ও চাষিদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, খাবার লবণ আমদানি বন্ধ রাখা হবে এবং আমদানিকৃত লবণ বন্দর থেকে খালাসের আগে পরীক্ষা করা হবে। এতে স্থানীয় লবণ শিল্প কিছুটা সুরক্ষা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার উপকূলে বর্তমানে প্রায় ৪১ হাজার লবণচাষি রয়েছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে বিদেশি লবণের চাপ ও দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে শিল্পটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে