প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হওয়া ১২ বছরের শিশু আরিয়ান আফিফ দীর্ঘ ১২২ দিনের লড়াই শেষে অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে হাসিমুখে মায়ের সঙ্গে বাড়ির পথ ধরেছে এই ছোট্ট যোদ্ধা।
গত জুলাই মাসে ভয়াবহ মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনার পর শরীরের ৪০ শতাংশেরও বেশি দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল আরিয়ানকে। জীবন বাঁচানোর প্রথম আট দিন তাকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়।
এরোনারি কেয়ার ইউনিট ও আইসিইউতে কাটানো সেই দুঃসহ সময়ে চিকিৎসকরা প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু হার মানেনি আরিয়ান।
১২২ দিনে তার শরীরে ছোট-বড় মোট ৩৪টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। একেকটি অপারেশন ছিল নতুন একটি যুদ্ধ।
ত্বক প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে গ্রাফটিং–প্রতিটি ধাপেই মৃত্যু উঁকি দিয়েছে। তবু শিশুটির বেঁচে ফেরার অদম্য ইচ্ছা আর চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ সে নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরল।
সকালে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি আরিয়ানের মা। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না।
ও যতদিন ছিল না, আমার বাসার দরজা বন্ধ ছিল। আজ তা খুলে গেল।’
ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আরিয়ানের কেস ছিল আমাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কেসগুলোর একটি। শুধু শারীরিক দগ্ধ নয়, মানসিক আঘাতও ছিল প্রচণ্ড। তাকে শারীরিক ও মানসিক–দুদিক থেকেই সুস্থ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে আরিয়ানের দেহে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৪টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। টানা তিন দিনসহ মোট আট দিন তাকে আইসিইউতে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখতে হয়।
ডা. নাসির উদ্দীন আরও বলেন, আরিয়ানকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ফলোআপসহ সব ধরনের নির্দেশনা হাসপাতালের পক্ষ থেকেই প্রদান করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ