প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৫২ পিএম

ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলের দায়সারা নেতৃত্ব ও আন্দোলনের কঠিন সময়ে মাঠে অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে সরওয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও স্থানীয় পর্যায়ের চার নেতা।
গতকাল বুধবার (১৯ নভেম্বর) গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তারা।
সে চার নেতা হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দীন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস ও কর্ণফুলী বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া।
আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, তিনবারের সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম ২০০৮ সালের পর থেকে দলীয় রাজনীতিতে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বাইরে থেকেছেন; এখন নির্বাচন আসাতে তিনি সক্রিয় হয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের আন্দোলনের সময় ১৯ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে শুধু মনোনয়ন নিতে দেশে ফেরেন। একইভাবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পরও তার মাঠের প্রচারণা ছিল প্রায় শূন্য। পোস্টার লাগানো, এজেন্ট নিয়োগসহ মৌলিক নির্বাচনী দায়িত্বও পালন করেননি বলেও জানান আবেদনকারীরা। এমনকি নির্বাচনের সময় পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় নেতারা আরো অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির নয়াপল্টন সমাবেশের আগে সরওয়ার জামাল নিজাম দেশে ছিলেন না। তারা জানান, তিনি ১৮ অক্টোবর দেশ ত্যাগ করে ফেরেন পরের বছরের জানুয়ারিতে-যখন দল সবচেয়ে কঠিন আন্দোলন পর্বের মুখোমুখি ছিল।
এছাড়া আবেদনকারীরা তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সরওয়ার জামাল নিজাম নৌকা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা বিএনপির আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কর্মীরাই আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়। মাঠের এসব কর্মীদের উপেক্ষা করে সুবিধাবাদী পরিচিত একজনকে মনোনয়ন দেওয়া তৃণমূলের প্রতি অবিচার হবে। প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা থেকে সরওয়ার জামাল নিজামের নাম বাদ দিলে তৃণমূলে আস্থা ফিরবে এবং সাংগঠনিক ঐক্য আরো মজবুত হবে।”