প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৫ AM

ইন্দোনেশিয়ার সেমেরু আগ্নেয়গিরি আবারও ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত শুরু করেছে। অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতগতির পাইরোক্লাস্টিক ফ্লো—গরম ছাই, গ্যাস ও পাথরের স্রোত পার্বত্য এলাকা বেয়ে নেমে আসে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই আকাশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঢেকে ফেলেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, সেমেরু আগ্নেয়গিরি থেকে ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় ছাইয়ের ঘন মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। ঝুঁকি এড়াতে বাসিন্দাদের আগ্নেয়গিরি থেকে কমপক্ষে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মুকদাস সোফিয়ান জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা) অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। পাইরোক্লাস্টিক স্রোত এখনও চলছে এবং এটি পর্বতের চূড়া থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবেদনের সময়েও অগ্ন্যুৎপাত অব্যাহত ছিল।
৩ হাজার ৬৭৬ মিটার (১২ হাজার ৬০ ফুট) উচ্চতার সেমেরু পর্বত, যা মাহামেরু নামেও পরিচিত, জাভার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থান করায় এলাকা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ।
ইন্দোনেশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে ঘন ঘন কার্যক্রমের কারণে সেমেরুকে সবসময় কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, কারণ এর অগ্ন্যুৎপাত আশপাশের গ্রাম, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচলের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সেমেরুর অগ্ন্যুৎপাতে ৬২ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু গ্রাম গরম ছাইয়ের নিচে চাপা পড়ে যায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে