
সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার ১৩ জনসহ ২৬ জেলেকে আটক করেছে সেই দেশের কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। পরে, আটককৃত জেলেদের ওই দেশের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতের মাধ্যমে একটি জেল হাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার গুলো।
আটককৃতরা হলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র ছৈয়দ নুর (৩০) ও গোলাম কাদেরের পুত্র মামুনুর রশীদ (২৫), মো. নাছির উদ্দীনের পুত্র মোহাম্মদ ইলিয়াছ (২০), মো. শাহ ইউনুছের পুত্র মো. মারুফুল ইসলাম প্রকাশ তারেক (২১), আবু বক্কর ছিদ্দিকের পুত্র মো. মিরাজ উদ্দিন (১৭), মাহমুদুল্লাহ'র পুত্র মো. ফারুক (৩০), নুরুল আলমের পুত্র মো. একরাম (২৮) ও সওকত আলম (২০), আবু বাইয়াতের পুত্র সরওয়ার হোছাইন (৩০), আমির হোসেনের পুত্র আজিজ হোসাইন (২০), নুর মোহাম্মদ, আবু তাহের, রেজাউল করিমসহ ১৩ জেলেরা একই ট্রলারে ছিলেন।
জানা যায়, শুক্রবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার এম. ভি মায়ের দোয়া নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যায়। রবিবার সন্ধ্যায় গন্তব্য স্থানে পৌছালে ফিশিং ট্রলারটি নোঙর করে। ওই রাতে ফিশিং ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয় এবং নোঙর ছিড়ে কুয়াশায় বিভ্রান্ত হয়ে ভারতীয় জল সীমানায় ডুকে পড়ে ২৬ জন জেলে। এসময় ইঞ্জিনটি মেরামতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। পরে, মাঝরাতে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ট্রলারসহ জেলেদের আটক করে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সোমবার কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।
আটক জেলেদের পরিবার জানায়, হঠাৎ করে ট্রলারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তারা উৎকণ্ঠায় ছিলেন। পরে খবর আসে যে, ট্রলারটি ভারতের সীমানায় ভেসে গিয়ে জেলেরা আটক হয়েছেন। সন্তান, স্বামী বা ভাইয়ের খবর জানতে না পেরে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন তাদের স্বজনরা। আমেনা বেগমসহ অনেকেই চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলেন, আমরা শুধু তাদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায় বেঁচে আছি।
ট্রলার মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, তার ট্রলারেই কুতুবদিয়ার ১৩ জনসহ ২৬ জন জেলে সাগরে গিয়ে ছিলো। পরে, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ট্রলারসহ জেলেদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠান। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যথোয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা কুতুবদিয়ার ১৩ জেলেদের আটকের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ