
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের জন্য বিখ্যাত কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে পরিচিত। অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য, সুবর্ণ বালুকাবেলা, নীল জলরাশি আর মনোরম পাহাড়–সব মিলিয়ে কক্সবাজার সারা বছরের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য সত্ত্বেও পর্যটন মৌসুমের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক সমাগম দেখা যাচ্ছে না।
সাধারণত নভেম্বরে সৈকতজুড়ে থাকে হাজারো পর্যটকের পদচারণা, হোটেল-মোটেলগুলো থাকে ব্যস্ত, রেস্তোরাঁ ও ট্যুর অপারেটরদের ব্যবসাও থাকে জমজমাট। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের মৌসুমে চিত্র ভিন্ন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী অনিশ্চয়তা এবং সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবই মূলত পর্যটক কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।
হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর এ সময়ে রুম বুকিংয়ের হার থাকে ৫০ শতাংশের বেশি। চলতি মৌসুমে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশের মতো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত কম পর্যটক নিয়ে মৌসুমের শুরুটা তাদের জন্য হতাশাজনক।
রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রতি বছরই কক্সবাজারে আসেন তিনি। তার অভিজ্ঞতায় এবার সমুদ্রসৈকত অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা। তবে তিনি মনে করেন, ভিড় না থাকায় ঝামেলা ছাড়া সমুদ্র-সৈকত উপভোগ করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ট্যুর অপারেটররা বলছেন, সেন্টমার্টিনে যাতায়াত সীমিতকরণ এবং রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করায় অধিকাংশ পর্যটক দ্বীপ ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটর আলাউদ্দিন জানান, পর্যটক সংকটে তাদের যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
রেঁস্তোরা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় পর্যটক আগমন কমে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরু হবে, এটি বিবেচনায় আসন্ন মাসগুলোতেও পর্যটকের চাপ কম থাকবে বলে ধারণা করছেন তিনি।
এদিকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত আংশিক উন্মুক্ত করা হলেও যাত্রী সংকটের কারণে এখনো জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। তবে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলে দ্বীপে স্বাভাবিকভাবে পর্যটক প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, রাত্রিযাপনের অনুমতি পেলে সেন্টমার্টিন আবার পর্যটকে সরগরম হবে, যা কক্সবাজারের সামগ্রিক পর্যটন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়তা করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ