প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৩ পিএম

সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫ বাতিল করে ২০০৯ সালের নীতিমালা পুনরায় কার্যকর, সার পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ডিলার কমিশন পুনর্বিবেচনা এবং ব্যাংক সুদহার কমানোসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে আশুগঞ্জ প্রেস ক্লাব সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএফএ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে সার বিতরণ চলছে। কিন্তু বর্তমানে ৬৫০ টাকার ইউরিয়া সার বাজারে ২২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজির সুযোগ বাড়ছে। নতুন নীতিমালায় অনুমোদিত ইউনিয়নে মাত্র তিনজন নতুন ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব থাকলেও অনেক এলাকায় বিদ্যমান ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুনদের অযৌক্তিকভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে সার বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা কমে যাবে, ফলে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ডিলার কমিশন পুনর্বিবেচনা এবং ব্যাংক সুদহার কমানোর দাবি জানানো হয়। ২০০৮ সালের পর থেকে পরিবহন ভাড়া, গুদাম ভাড়া, ব্যাংক সুদসহ বিভিন্ন ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু কমিশন বাড়েনি— যা সার ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, সরকার দ্রুত নীতিমালা সংশোধন না করলে সার সংকট মোকাবিলা কঠিন হবে, কৃষি উৎপাদন কমে যাবে এবং কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। তাদের দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএফএ জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. শহীদ মিয়া, মো. জাফর হোসেন, মো. ইব্রাহিম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম সিদ্দিকী, অর্থ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিনসহ জেলার সার ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে