প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন জামায়তের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “এই বিচার যথার্থ হয়েছে। এটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ছিল। ট্রাইব্যুনালের রায় সারা বিশ্বের সামনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।”
তবে তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে জামায়তের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল সাজানো। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময়ে আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী গুম করা হয়েছে, স্কাইপ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে এবং বিদেশ থেকে রায় লিখে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রায়ে একই সঙ্গে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এটিই প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষিত হলো। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছয় অধ্যায় ও ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
রায় ঘোষণার সময় আদালত ভরে ছিল আইনজীবী এবং জুলাই-অগাস্টে নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে। আদালত উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে; একটিতে আজীবন কারাদণ্ড এবং অন্য দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।