
কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত ছাত্র সংসদ। মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, জাতির মুক্তিকামী জনগণ ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৮ বছরের দুঃসহ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে, তাই এই অর্জন রক্ষায় সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো—যেমন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ—পুনরায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করা হয়। সম্মিলিত ছাত্র সংসদের মতে, এই সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকারের বর্তমান পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, তাই প্রয়োজন দেশব্যাপী কঠোর অভিযান।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় দুই হাজার শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত জুলাই বিপ্লবের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। সেই সঙ্গে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো অরাজকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মিলিত ছাত্র সংসদ দাবি করে, ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক সৃষ্ট অনিরাপত্তা দূর করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে সব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত টহল জোরদার করে জনগণের জানমাল সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ছাত্র সংসদের নেতারা বলেন, “আমাদের ভয়—নির্বাচিত সরকার আসার পর এই সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া ধরে রাখা হবে কি না। তাই সরকারের উচিত এখনই দৃঢ় অবস্থান নেওয়া, যাতে অর্জিত সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া টিকে থাকে।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) ও চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি। তারা দেশের সব দেশপ্রেমিক নাগরিক, ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান—ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে জাতিকে নিরাপদ রাখতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ