
আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষের টার্গেট এবং এক্সপেকটেশন থাকলে তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সঠিক গ্রাফ না থাকাই হয় প্রজন্মের হতাশা।
উপমহাদেশে বাবা-মায়ের ইচ্ছে সন্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়া বর্তমানে অনেকটা কমলেও সেটি ৫০% হয়নি এখনো। তারা সন্তানকে তাদের প্রকল্প কিংবা মানব বিনিয়োগ ভাবেন।
এছাড়াও ৯৪-৯৫% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের এই দেশে একটি বৃহৎ অংশ এখনো মনে করেন যত সন্তান নেওয়া যায় ততই ভালো, তাদের ভাষ্যে- যার রিজিক সে নিয়ে আসে। অথচ তাদের ভাবা উচিত ছিলো যে আসছে সে নিজ ইচ্ছায় নয় আপনাদের ইচ্ছাতেই আসতে তাই তার রিজিকে আল্লাহ দিলেও জোগানের দায় আপনার।
বেকারত্ব বৃদ্ধির তালিকায় বিশ্বে ১২ এবং দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় অবস্থান রয়েছে আমাদের ব-দ্বীপটি (বাংলাদেশ)। এই দেশে বেকারত্বের জন্য বেশিরভাগ মানুষ রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দোষালেও, আমার দৃষ্টিতে সেটি হবে তার পরিবার। উন্নত বিশ্বে পদ্মফুলে গোবর হলেও আমাদের দেশে এখনো গোবরে পদ্মফুল ফোঁটে, যাকে সাকসেস হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ আমি।
সন্তানের জন্মের পর তাকে পর্যাপ্ত অর্থ প্রদানের চেয়েও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা। শুধুমাত্র বল প্রয়োগ করে নয়, বাচ্চার বয়সের সাথে সাথে সঠিক দিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, তাকে রিড করা প্যারেন্টস এবং শিক্ষকদের উপর সমান ভাবেই বর্তায়। কারণ, এইদেশে অর্থের চেয়ে বেশি অভাব সঠিক গাইডলাইনস এবং জীবনমুখী শিক্ষার।
হ্যাঁ, আমাদের দেশে এখনো দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষিকাজে জড়িত হলেও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে কৃষিতে আধুনিকায়ন কিংবা বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি নগণ্য। সঠিক শিল্প চর্চার অভাবে এই দেশ উন্নত কৃষক কিংবা জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে আজও ব্যর্থই হয়ে চলছে।
এই দেশে বিভিন্ন ধাপে মেধা ক্ষয় হয়। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তরের এই জার্নির ইতি একেক জনের একেক সময়ে হলেও বুঝতে শিখলে এই মানুষগুলো ভাবতে থাকে যে আগে ঝরে পড়েছে সেই ভালো করতে পেরেছে। এই ছোট বয়সে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপে পাড়ি জমায় অর্থসন্ধ্যানে, যার দরুন তার পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও এই দায় বয়ে চলে।
এই ক্ষেত্রে আরেকটি নোংরা ইস্যু হচ্ছে রাজনীতি, আনন্দ-ক্ষমতা আর বিনা পুঁজির এই শ্রমে নিজের ক্যারিয়ার এবং জীবন বাজি রাখে এ দেশের হাজারো তরুণ। অথচ নেতা তার সন্তানদের ঠিকই উন্নত জীবনযাপন দিয়ে জুয়ার বোর্ডে এই দেশের মানুষের স্বপ্ন নিয়ে খেলছেন।
পরিশেষ বলা যায়, সন্তানের জন্মের সাথে তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি সঠিক দিকনির্দেশনা দায় যতদিন না গ্রহণ করতে পারবেন, ততদিন একটি প্রাণের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলুন।
লেখকঃ গণমাধ্যমকর্মী
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে