| শিরোনাম: |

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে ভয়াবহ নিপীড়ন ও অনৈতিক প্রস্তাবের বাস্তবতা তুলে ধরলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রেশমা আক্তার আদুরি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, জাতীয় দলের প্রায় ৯৯ শতাংশ নারী ক্রিকেটার জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে কুপ্রস্তাবের শিকার হয়েছেন।
রেশমা জানান, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের মুখ খোলার পর তিনিও নীরব থাকতে পারেননি। তার ভাষায়, “জাহানারা সাহস করে যা বলেছে, সেটি বলার মতো অনেক কিছুই আমাদের সবার মধ্যেই জমে আছে। মেয়েরা জাতীয় দলে পৌঁছাতে অনেক সংগ্রাম করে। কিন্তু সেখানে গিয়েও যখন কুপ্রস্তাবের মুখে পড়ে, তখন প্রতিবাদ করার সাহস পায় না—কারণ প্রতিবাদ মানে দল থেকে বাদ পড়া।”
তিনি বলেন, কোচ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, নারী ক্রিকেটে নিপীড়ন ও অপমানের ঘটনা বহুবার ঘটেছে, কিন্তু বেশিরভাগ সময় তা চেপে রাখা হয়।
একটি ঘটনার উদাহরণ দিতে গিয়ে রেশমা বলেন, “কক্সবাজারে এক ক্যাম্পে খাবারের মান নিয়ে সামান্য অভিযোগ করেছিল লতা মণ্ডল। সেই কারণে তাকে ২০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে সবাইকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল—মুখ খুললে জায়গা থাকবে না।”
রেশমা জানান, বিসিবির নারী বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কুপ্রস্তাবের সংস্কৃতি চালু রয়েছে। তার ভাষায়, “মনোয়ার আনিস খান ম্যাডাম চলে যাওয়ার পর থেকে নারী বিভাগে যারা পুরুষ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের ৮০ ভাগই কোনো না কোনোভাবে নারী ক্রিকেটারদের হয়রানি করেছেন। জাতীয় দলের ৯৯ শতাংশ মেয়ে এসবের শিকার হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিসিবির নারী বিভাগের অতীত ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই নারী খেলোয়াড়দের কাছে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। “রেদোয়ান স্যারের সময় থেকে শুরু করে সর্বশেষ হাবিবুল বাশার স্যার পর্যন্ত অনেকেই নারী খেলোয়াড়দের হয়রানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন,” বলেন তিনি।
তবে হাবিবুল বাশার সম্পর্কে তিনি জানান, “তার বিরুদ্ধে কোনো খারাপ অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। উনি সৎ ছিলেন এবং বেশি দিন এই বিভাগে দায়িত্বেও ছিলেন না।”
রেশমা আরও দাবি করেন, বর্তমানে বিসিবিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নাজমুল আবেদীন ফাহিমের বিরুদ্ধেও অনেক নারী ক্রিকেটার অভিযোগ করেছেন। “অনেক মেয়ের কাছ থেকে শুনেছি উনার চারিত্রিক সমস্যা আছে। তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, বিকেএসপির বাইরে অন্য মেয়েদের তেমন গুরুত্বই দেন না,” বলেন তিনি।
অভিযোগের প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে রেশমা বলেন, “প্রমাণ কীভাবে থাকবে? কেউ কুপ্রস্তাব দিলে সেটা কি রেকর্ড করা যায়? কিন্তু মেয়েরা যে আমার কাছে কেঁদে কেঁদে বলেছে, সেটা কি মিথ্যা হতে পারে? বছরের পর বছর এভাবেই অন্যায় চেপে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভুলু স্যার, সজল স্যার বা রুহুল আমিন—এই নামগুলো নারী ক্রিকেটে প্রায়ই অভিযোগের তালিকায় আসে। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের মেয়েরা বিশেষ করে ভয়ানক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।”
বিএসিবির নারী বিভাগে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের না এনে অনৈতিক ও অযোগ্যদের প্রভাব বিস্তারের কারণেই পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন রেশমা আক্তার।
অধিনায়ক নিগার সুলতানার বিরুদ্ধেও জাহানারা আলমের অভিযোগের বিষয়ে রেশমা বলেন, “আমার জানা মতে জ্যোতির (নিগার সুলতানা) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো শতভাগ সত্য।”
তিনি বলেন, “জাহানারা একা নয়—আমরাও আছি। নারী ক্রিকেটে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে এখনই সত্য প্রকাশ করা জরুরি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ