
ফাইল ছবি
জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পেসার জাহানারা আলমের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সরগরম দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে থাকা অভিযোগগুলো সম্প্রতি তার মুখে প্রকাশ পাওয়ায় টালমাটাল হয়ে উঠেছে ক্রিকেটপাড়া। অভিযুক্তদের পাশাপাশি অনেকেই এখন আতঙ্ক ও শঙ্কায় রয়েছেন।
সম্প্রতি দুটি সাক্ষাৎকারে জাহানারা জানান, নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি বহুদিনের বাস্তবতা। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ মঞ্জুরুল ইসলাম এবং প্রয়াত কর্মকর্তা তৌহিদ মাহমুদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের আচরণ ছিল অনৈতিক ও অপেশাদার। এক সাক্ষাৎকারে জাহানারা অভিযোগ করেন, “উনি (মঞ্জুরুল) একদিন আমার কাছে এসে কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোর পিরিয়ডের কতদিন চলছে?’ এরপর বলেন, ‘পিরিয়ড শেষ হলে, যখন ডাকব, চলে আসিস।’”
প্রথমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অভিযোগটিকে গুরুত্ব না দিলেও বিষয়টি জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করায় জরুরি ভিত্তিতে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এখন প্রশ্ন, অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলামসহ যেসব কর্মকর্তা ও বর্তমান অধিনায়কের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করবে কি না বিসিবি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মঞ্জুরুল ইসলাম বর্তমানে চীন থেকে এএফপিকে বলেন, “সব মিথ্যা। আপনি দলের অন্য মেয়েদের জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।”
এদিকে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে বলেছেন বিসিবিকে। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “আমাদের দপ্তর থেকেও ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি যদি আইনগত ব্যবস্থা নিতে চান, যেহেতু এটি ফৌজদারি অপরাধ, সরকারের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
জাহানারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি কোচিং কোর্স করছেন। তার এই অভিযোগ দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিবারগুলো এখন আবারও ভাবতে বাধ্য হবে — মেয়েদের খেলাধুলায় পাঠানো কতটা নিরাপদ।
এছাড়া, জাতীয় দলের বাইরের ও ক্লাব পর্যায়ের আরও কিছু নারী ক্রিকেটারও একই ধরনের নিপীড়নের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন, একাধিক ক্লাব কোচের বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ রয়েছে, যা এখন নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছে ক্রীড়া মহলে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর