
চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। স্থবিরতা কাটিয়ে বেড়েছে আমদানি-রপ্তানি। নেপালে বেড়েছে বাংলাদেশি আলুর চাহিদা। নেপালে ৯ মাসে ৩৯ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানিতে সরকারের বেড়েছে রাজস্ব আয়।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ঘুরে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশের বৈরী সম্পর্কের কারণে বন্দরটিতে দেখা দিয়েছিল স্থবিরতা। বন্দরটিতে ৯৫ শতাংশ পাথর নির্ভর
হওয়ায় বিভিন্ন কারণে ভারত ও ভুটান থেকে বন্ধ ছিল পাথর আমদানি। সম্প্রতি সেই স্থবিরতা কেটেছে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিতে।
স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয় জানায়, দেশের অপার সম্ভাবনাময় স্থলবন্দরটি দিয়ে এখন রপ্তানি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য। গত অক্টোবরে নেপালে আলু রপ্তানি হয়েছে ১১ হাজার ২৫ মেট্রিক টন। চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে ১৯ হাজার ২৯৯ মেট্রিক টন ও মৌসুমের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছে।
এদিকে চলতি নভেম্বরের প্রথম পাঁচদিনে ৩ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন আলু নেপালে রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ১ নভেম্বর ৮৬১, ২ নভেম্বর ৬৫১, ৩ নভেম্বর ৪৪১, ৪ নভেম্বর ৮১৯ ও ৫ নভেম্বর ৯০৩ মেট্রিক টন আলু নেপালে গেছে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপপরিচালক নুর হাসান জানান, পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বাছাইকৃত আলু রপ্তানি করছে স্থানীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। নেপালের বাজারে বাংলাদেশি আলুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ কারণেই রপ্তানির পরিমাণও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে বাংলাবান্ধা বন্দর অনেক সম্ভাবনার। বন্দরটি পাথর আমদানি
নির্ভর হলেও বর্তমানে রপ্তানিতে এগিয়ে রয়েছে পাট, আলু, প্লাস্টিক পণ্য, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও কটন (গার্মেন্টস ঝুট)। রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিসহ বন্দরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে শুরু হয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কার্যক্রমর। এরপর বন্দর দিয়ে সীমিত পরিসরে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে পাথর, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা আমদানি হতো।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস