আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, এই দেশের মানুষ আর স্বৈরাচার চায় না। মানুষ তাদের বিশ্বস্ত গণতান্ত্রিক দল বিএনপির অপেক্ষায় আছে। তারা বিশ্বাস করে, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির বিকল্প নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর পূর্ব রামপুরা হাই স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা পূর্ববর্তী মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “তোমরা ভালোভাবে পড়াশুনা করবে। আমাদের নবী জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীনে পর্যন্ত যেতে বলেছেন। পড়াশুনা ছাড়া নিজেকে এবং দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব প্রদান করা সম্ভব হবে না। তাই তোমাদের উচিত আগামীর জন্য প্রস্তুত হওয়া। ভালো শিক্ষা অর্জনে যা প্রয়োজন আমাদের দেশের অর্থনীতিক এবং সামাজিক অবস্থার কারণে তা হয়ে উঠে না।”
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশ বৈষম্যমুক্ত। এই দেশে স্বৈরাচারের কোনো ঠাঁই নেই। স্বৈরাচার এই দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছে। তাই দেশকে গড়ে তুলতে তোমাদের প্রস্তুত হতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সম্ভাবনাময় আধুনিক বাংলাদেশ।”
বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক পানিবাহিত রোগ বিস্তার লাভ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সব স্কুল/কলেজে ফিল্টার পানির ব্যবস্থা করে দিবো। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পাশাপাশি সুস্থ থাকার গুরুত্ব অনেক। কারণ তারা সুস্থ না থাকতে পারলে সঠিকভাবে পড়াশুনা করতে পারবেনা। স্কুলে যা যা সুযোগ সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন আমরা চেষ্টা করবো সকল সুবিধা প্রদানের।”
ড. এম এ কাইয়ুম আরো বলেন, “ক্ষমতায় টিকে থাকতে এমন কোনো অপকর্ম নেই যে শেখ হাসিনা করেনি। গুম-খুন-হত্যা-নির্যাতন সবই করেছে, তবুও সে টিকে থাকতে পারেনি। এ দেশে ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তানিরাও বল প্রয়োগ করে টিকে থাকতে পারেনি। দেশের মানুষ আগে থেকেই স্বাধীনচেতা, এখানে কোনো অত্যাচারীর ঠাঁই হয়নি এবং হবে না। এই দেশের মানুষ মানুষ তাদের বিশ্বস্ত গণতান্ত্রিক দল বিএনপির অপেক্ষায় আছে।”
এই সমাজ থেকে পুরোপুরিভাবে মাদককে নির্মূল করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে মাদকের কারবার করে ২-৩% মানুষ। কিন্তু আমার বাকি ৯৭-৯৮% মানুষ মিলেও তাদের প্রতিরোধ করতে পারছি না একমাত্র আইনের দূর্বলতার জন্য। এই সমাজ গড়ার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে, আপনাদেরকে সাথে নিয়ে এই সমাজকে আমরা মাদক মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ্।”
ঢাকা ১১ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “আপনারা জানেন যে আমরা বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও হাতিরঝিল (আংশিক) এলাকায় ইতোমধ্যেই আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এই এলাকাগুলোর স্কুল-কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়নের চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ্। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগকে সহজ করে দিবেন।”
এদিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এজিএম শামসুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ফয়েজ আহমেদ ফরু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান মিহির, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি রামপুরা থানার আহ্বায়ক হেলাল কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য মাহবুবুল আলম ভূইয়া শাহীন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সোহেল রানা ভূইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি রামপুরা থানার ৯৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মাইদুল ইসলাম শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও এদিন বিকেলে গুলশান লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির মনোনিত প্রার্থী, মাটি ও মানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম। এসময় তিনি বৃক্ষরোপণ ও পরিস্কার পরিছন্নতা কর্মসূচিতেও অংশনেন।
এদিন বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও হাতিরঝিল আংশিক এলাকার বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।