
দশমিনায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান, পলাতক স্বামী!
পটুয়াখালীর দশমিনায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন উর্মি নামের এক তরুণী।
আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর গ্রামের খাঁন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী গ্রামের জাফর প্যাদার কলেজপড়ুয়া মেয়ে উর্মির সঙ্গে একই উপজেলার উত্তর লক্ষীপুর গ্রামের মো. কাশেম খাঁনের ছেলে রিয়াদ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর তারা পরিবারের অজান্তে পটুয়াখালী নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা পটুয়াখালী, কলাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান।
কিছুদিন পর বিষয়টি দুই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে জানাজানি হলে রিয়াদ উর্মির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
উর্মি জানান, সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে তিনি রিয়াদের বাড়িতে এসে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। রিয়াদের বাবা-মা উর্মির পরিবারকে জানিয়ে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলেও পরে তারা জানান, এই বিয়ে তারা মেনে নেবে না। ফলে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে উর্মি মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রিয়াদের বসতঘরে অবস্থান নেন। এরপর থেকে রিয়াদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উর্মি বলেন, “রিয়াদের সঙ্গে আমার ৭-৮ মাসের প্রেমের সম্পর্ক। গত মাসে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাবে আমি বিয়ের আগে রাজি হইনি। পরে ৬ অক্টোবর আমরা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। এরপর কলাপাড়া ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছি এবং বিভিন্ন বোর্ডিংয়ে থেকেছি। সেখানেও আমাদের বিবাহের প্রমাণ দেখাতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্বামী এখন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাব না। প্রয়োজনে এখান থেকে আমার লাশ যাবে।”
রিয়াদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রিয়াদের পিতা মো. কাশেম খাঁন বলেন, “আমার ছেলে যদি বিবাহ করে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। সে এখন আমার সঙ্গে থাকে না, যা করেছে সে নিজেই বুঝবে।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।