
দেশে শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ছয়জন জন্মগতভাবে বধির শিশুর কানে সফলভাবে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট (Cochlear Implant) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কথা বলতেও সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ২৬, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। উপকৃত হওয়া শিশুরা হলো ভোলা জেলার ৩ বছর ১০ মাস বয়সী ওমর ফারুক, বরিশালের ৩ বছর ৮ মাস বয়সী হাফিজা, কুষ্টিয়ার ৩ বছর ১০ মাস বয়সী আদিবা, বরিশালের ৪ বছর ৮ মাস বয়সী আলিফ খান, নওগাঁর ৪ বছর ৭ মাস বয়সী রিয়াজ হাসান এবং মুন্সিগঞ্জের ৩ বছর ১০ মাস বয়সী শাহেল ইসলাম।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান এবং হেড–নেক সার্জারি প্রকল্প পরিচালক (কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট) অধ্যাপক ডা. নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, “কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি। দক্ষ সার্জনরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর অন্তঃকর্ণে ইলেকট্রনিক ডিভাইস স্থাপন করেন, যা শ্রবণ স্নায়ুকে সরাসরি উদ্দীপিত করে। এর ফলে সম্পূর্ণ বধির শিশুরাও শব্দ শুনতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশু বধির হয়ে জন্ম নেয়। দেশে এই চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হওয়ায় জন্মগতভাবে শ্রবণ ও বাকশক্তিহীন শিশুদের জন্য নতুন আশা তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্টকে অনেকে ‘বায়োনিক কান’ও বলেন। এটি দুই অংশে বিভক্ত—বাইরের অংশে থাকে মাইক্রোফোন, স্পিচ প্রসেসর ও ট্রান্সমিটার কয়েল, আর ভেতরের অংশে থাকে রিসিভার-স্টিমুলেটর ও ইলেকট্রোড।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নামমাত্র খরচে এই অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। আগে বিদেশে এই চিকিৎসার জন্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হতো, এখন দেশে তা ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় করা সম্ভব।
অস্ত্রোপচার পরিচালনায় অংশ নেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. ইফতেখারুল আলম, অধ্যাপক ডা. নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক ডা. এস. এম. ফয়সাল সিজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এটিএম সুমাইয়েফ-উর রহমান (সৈকত)সহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা জানান, এসব শিশু এখন নিয়মিত শ্রবণ পুনর্বাসন ও ভাষা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা চারপাশের শব্দ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে এবং কথা বলা শিখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে