বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
নিষেধাজ্ঞায় দিশেহারা মোংলাসহ উপকূলের জেলেরা
মোংলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৪৫ পিএম

একটির পর একটি নিষেধাজ্ঞায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে। সাগর, নদী ও সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে প্রায় সারা বছর ধরেই কোনো না কোনোভাবে জারি থাকে মাছ ধরার ওপর অবরোধ। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব জেলেরা।

আজ শনিবার (১ নভেম্বর) উপকূলজুড়ে দীর্ঘ সময়ের এসব নিষেধাজ্ঞা ও সহায়তার সীমাবদ্ধতায় দিন দিন ভেঙে পড়ছে জেলেদের জীবনধারা। জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।

জেলেদের অভিযোগ, বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়ের উৎস শূন্য হয়ে যায় তাদের। নৌকা-জাল বিক্রি করে, ধার-দেনা করে কিংবা অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকেই।

মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর জানুয়ারিতে ১৫ দিন এবং ফেব্রুয়ারিতে আরও ১৫ দিন চালানো হয় বিশেষ কম্বিং অপারেশন। এসময় অবৈধ জাল ধরতে অভিযান চলে, তবে জেলেরা কোনো সহায়তা পান না। প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ সময়টি মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জেলেদের জাল ফেলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, “মৎস্য অধিদপ্তরের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের চাল সহায়তা দেওয়া হয়। তবে বনবিভাগের নিষেধাজ্ঞার সময় তারা কোনো সহায়তা পান না। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছর থেকে বনবিভাগ থেকেও কিছু সহায়তা দেওয়া হবে।”

এছাড়া অক্টোবর মাসে ২২ দিনের জন্য সাগর ও নদীতে অবরোধ থাকে মা ইলিশ সংরক্ষণে। এ সময় সাগর ও নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। আবার প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেরা দুই দফায় সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পান- প্রথম দফায় ৮০ কেজি ও দ্বিতীয় দফায় আরও ৮০ কেজি। কিন্তু এতে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না বলে জানান জেলেরা।

স্থানীয় জেলে জাহিদ ব্যাপারী, চয়ন বিশ্বাস ও সিরাজ শিকদার বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা এই নদীতে নৌকা বেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আমরাও তাই করি। কিন্তু এখন নদীতে আগের মতো মাছ নেই। নিষেধাজ্ঞার সময় যে চাল পাই, তা দিয়ে সংসার চলে না। বাচ্চাদের খাওয়াতেও কষ্ট হয়।”

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মণ্ডল বলেন, “মোংলায় প্রায় ৩০ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ৬ হাজারের কিছু বেশি। অথচ যোগ্য জেলেই রয়েছে অন্তত ১৫ হাজার। বাকিরা আবেদন করেও কার্ড পাচ্ছে না।”


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  মোংলা   উপকূল   জেলে  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close