প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪০ AM

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র প্রদর্শনের খেলা শুরু করার পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এতে নামলেন। স্নায়ুযুদ্ধের মতো এ উত্তেজনা এখন পারমাণবিক অস্ত্র পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি পুতিন সীমাহীন পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সুপার টর্পেডোর পরীক্ষা চালানোরও ঘোষণা দিয়েছেন, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে আটকাতে অক্ষম বলেও দাবি করেছেন।
উত্তর কোরিয়াও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। নিজেদেরকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে প্রমাণ করতে তারা কোনো দোষভোগ করছেন না।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পও আর নীরব থাকলেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ১৯৯২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা হবে। তিনি জানান, অন্যান্য দেশের পরীক্ষা কর্মসূচির কারণে যুদ্ধ বিভাগের ওপর সমতার ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের তুলনায় বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, এবং রাশিয়ার পরে চীনের অবস্থান। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে পাঁচ বছরের মধ্যে চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
মাত্র কয়েকদিন আগে ট্রাম্প রাশিয়ার সীমাহীন পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বিবেচনায় অস্ত্রাগারকে হালনাগাদ ও সংস্কার করা ছাড়া তার হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র শেষবার ভূগর্ভে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল। নেভাডার টেস্ট সাইট এখনও মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।
তবে ট্রাম্প কীভাবে এই পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ নির্দেশ বিশ্বজুড়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
সূত্র: বিবিসি