
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। তার দাবি, হামাস অনেক আগেই উদ্ধার হওয়া এক ইসরাইলি বন্দির দেহাবশেষ ফেরত দিয়েছে, যা চুক্তির শর্ত ভঙ্গের সামিল।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) হামাস ইসরাইলের হাতে যে দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় সেটি ওফির জারফাতি নামের এক ইসরাইলি জিম্মির বলে শনাক্ত হয়। তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় অপহরণ করা হয় এবং ওই বছরের নভেম্বরে আংশিক দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছিল।
নেতানিয়াহু বলেন, “হামাস এমন এক বন্দির দেহাবশেষ ফেরত দিয়েছে, যার কিছু অংশ প্রায় দুই বছর আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।” তিনি জানান, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলের হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম জানায়, চুক্তি অনুযায়ী ৪৮ জন বন্দিকে ফেরত দেওয়ার নির্ধারিত সময় দুই সপ্তাহ আগেই শেষ হয়েছে। তবুও হামাসের হাতে এখনও ১৩ জন বন্দির লাশ রয়েছে—এর মধ্যে ১১ জন ইসরাইলি, একজন থাই ও একজন তানজানিয়ার নাগরিক। ফোরামের দাবি, হামাস জানে এসব দেহাবশেষ কোথায় আছে, তাই যতক্ষণ না সব বন্দিকে ফেরত দেওয়া হয়, ততক্ষণ চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে না যাওয়াই উচিত।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, “আমরা সব বন্দির দেহাবশেষ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ইসরাইলি হামলায় বহু ভবন ধ্বংস হওয়ায় লাশগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা দেহাবশেষগুলো ফেরত দেব।”
এদিকে, মিশর, রেডক্রস ও হামাসের যৌথ উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে লাশগুলো সন্ধান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার এই ইস্যুটি নেতানিয়াহু ও তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের স্বার্থে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরদিনই ইসরাইল গাজায় পুনরায় হামলা শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ