প্রকাশ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৩ পিএম

দিনাজপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের চাকরির পরীক্ষায় অভিনব পদ্ধতিতে জালিয়াতির চেষ্টা করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার হলে বারবার সন্দেহজনকভাবে কাশি দিতে থাকায় কক্ষ পরিদর্শকদের নজরে আসেন তিনি। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে দুটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করে পুলিশ।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর শহরের কসবা এলাকার কেরী মেমোরিয়াল হাই স্কুল কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে খাদ্য অধিদপ্তরের ‘উপখাদ্য পরিদর্শক’ পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
আটক পরীক্ষার্থীর নাম কৃষ্ণকান্ত রায় (৪২)। তিনি বিরল উপজেলার সিঙ্গুল পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দিনাজপুর শহরের ফকিরপাড়া এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন।
পরীক্ষাকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণকান্ত রায়কে বারবার কাশতে দেখে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয় কক্ষ পরিদর্শকদের কাছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ঢাকার একটি চক্রের সহযোগিতায় তিনি পরীক্ষায় জালিয়াতির পরিকল্পনা করেছিলেন। চক্রটি তাকে জানিয়েছিল, যদি প্রশ্নের সেট ‘পদ্মা’ হয়, তাহলে কাশি দিতে হবে, যাতে তারা বুঝতে পারে কোন সেট চলছে।
জালিয়াতির কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শুরুর এক থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ঢাকায় পাঠানো হতো। এরপর দিনাজপুর শহরের ফকিরপাড়া ও সুইহারি এলাকার ছাত্রাবাসে অবস্থানরত কোচিং সেন্টারের কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করতেন। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেট নম্বর জেনে নিয়ে ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তরের সংকেত (ক, খ, গ, ঘ) পাঠানো হতো। পরীক্ষার্থী সেই নির্দেশনা শুনে উত্তরপত্রে দাগ দিতেন এবং পরে ওএমআর শিটে পূরণ করতেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল যে একটি কেন্দ্রের একজন পরীক্ষার্থী ডিভাইস ব্যবহার করছেন। বিশেষ নজরদারির পর ১০১ নম্বর কক্ষের ওই পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করে তল্লাশি চালানো হয়। তার কাছ থেকে দুটি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।”
সূত্র জানায়, দিনাজপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অন্তত ৫৫ জন পরীক্ষার্থী একই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, “এক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তার ভাইকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। পুরো চক্রটি শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে