
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম নগরের অপরাধ জগতে এক সময় কুখ্যাত নাম ছিল ছোট সাজ্জাদ। হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলার আসামি এ সন্ত্রাসী ছিলেন বড় সাজ্জাদ নামে পরিচিত শিবির ক্যাডারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার বাহিনী এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে জানা যায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট সাজ্জাদের ছায়া ফেলে আলোচনায় এসেছে আরেক ভয়ংকর নাম; শহীদুল ইসলাম ওরফে ‘বুইস্যা’। চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ছোট সাজ্জাদের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে এই কিশোর গ্যাং নেতা। তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেশি, বাহিনী আরও বড়, আর আছে নিজস্ব ‘টর্চার সেল’।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোলার দৌলতখান উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে বুইস্যা বর্তমানে চট্টগ্রামের পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় থাকেন। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। কোনো রাজনৈতিক পদ না থাকলেও নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।
ছোটবেলায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অপরাধে হাতেখড়ি হয় তার। পরে হাতে তুলে নেন অস্ত্র এবং যুক্ত হন মাদক ব্যবসায়। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ৩০ সদস্যের একটি বাহিনী, যারা মাদক, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২০টি মামলা, যার মধ্যে ৮টি অস্ত্র মামলা।
চাঁদা না পেলে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি ছোড়া বুইস্যা ও তার সহযোগীদের রীতিতে পরিণত হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশ এলাকায় তার সহযোগী মুন্না প্রকাশ্যে গুলি চালায়, যা ভিডিও হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগেও, গত বছরের ১০ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার পাশে এক মোটরগ্যারেজে চাঁদা না পেয়ে নিজে গুলি ছুড়েছিলেন বুইস্যা। গ্যারেজ মালিক জানান, প্রথমে ২০ লাখ, পরে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। না দেওয়ায় গুলি চালানো হয়। এছাড়া ১৯ অক্টোবর এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলায় বুইস্যার নিজস্ব ‘টর্চার সেল’ চালানোর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ২১ জুলাই সেখানে অভিযান চালিয়ে ১১ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার করা হয় দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও খোসা।
তৎকালীন চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, বুইস্যার টর্চার সেলে যাদের কাছ থেকে চাঁদা পাওয়া যেত না, তাদের সেখানে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। প্লায়ার্স, রামদা, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ নির্যাতনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
২০২৩ সালের ২৩ মে কালুরঘাট এলাকা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন বুইস্যা গ্যাংয়ের লিডার শহীদুল ইসলাম। তবে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর থেকে বুইস্যা পলাতক, আর তার বাহিনী এখনো এলাকায় সক্রিয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।