প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ২:০৫ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। হত্যার সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন তার ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে জুবায়েদ প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্ষার মন গলেনি।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বর্ষার বাসায় টিউশনি করতে যাওয়া জুবায়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার ছাত্রী বর্ষার। তবে আগে থেকেই বর্ষার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল মাহির রহমান নামের এক তরুণের। জুবায়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে মাহিরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে বর্ষার। তবুও মাহিরকে ভুলে উঠতে পারেননি তিনি।
পুলিশের দাবি, সম্পর্কের জটিলতা থেকে শুরু হয় পরিকল্পনা। টানা ২৩ দিন ধরে বর্ষা ও মাহির মিলে জুবায়েদকে হত্যার ছক কষে।
নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া মাহির জানায়, প্রথমে ভয়ভীতি দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্ষার চাপেই হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে। ঘটনার দিন ছুরি দিয়ে জুবায়েদের গলায় আঘাত করে মাহির।”
পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে বর্ষার বাসায় যাওয়ার পথে জুবায়েদের সঙ্গে দেখা হয় মাহিরের। এ সময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং কিছুক্ষণ পরই ছুরিকাঘাতে নিহত হন জুবায়েদ।
নিহত জুবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনার পরদিন, সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে