
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ রহমান হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদল।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে হত্যার প্রতিবাদ জানান। তাদের স্লোগানে উঠে আসে, “আমার ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে”, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে”, “ফাঁসি চাই খুনির”, “জবিতে লাশ পড়ে, ইন্টেরিম কী করে?”, “শিক্ষা সন্ত্রাস একসাথে চলবে না” ইত্যাদি।
কুবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বলেন, “আমরা যে সময়টাতে পড়ার টেবিলে থাকার কথা, সে সময়ে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। সহযোদ্ধা জুবায়েদের মতো একজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
তিনি আরও বলেন, “২৪-পরবর্তী সময়েও একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা প্রমাণ করে ইন্টারিম সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। পারভেজ, সাম্য, সুমাইয়া ও তার মায়ের ওপর হামলার বিচার হয়নি। যদি জুবায়েদ হত্যার বিচার না হয়, তবে এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।”
শাখার আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম শাওন বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজও অধরা। জুবায়েদ হত্যাকাণ্ড শুধু একজন নেতার মৃত্যু নয়, এটি গণতন্ত্র, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “আমরা ইন্টারিম সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, নইলে আমরা রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
রবিবার সন্ধ্যার দিকে পুরান ঢাকার একটি বাসার সিঁড়িতে ছুরিকাঘাতে খুন হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে